ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

এবার জোট করতে ইরানকে ডেকেছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন।

তবে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আল মায়াদিনের প্রতিবেদনে ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থা খানে মিল্লাতের প্রধান মেহেদী রহিমির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জোটে যোগ দেওয়ার জন্য তেহরান ইতোমধ্যে একটি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে। বর্তমানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির মূল বিষয় হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা। এর আওতায় জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তবে তুরস্ক জানিয়েছে, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য নয়। বরং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

ইতোমধ্যে তিন দেশ নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভবিষ্যতে মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইরানও জোট গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান দেখিয়েছে। গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

তবে ইরান শেষ পর্যন্ত এই জোটে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান একই সামরিক কাঠামোর অংশ হলে তা হবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য এই সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত

এবার জোট করতে ইরানকে ডেকেছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

আপডেট সময় ০৪:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন।

তবে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আল মায়াদিনের প্রতিবেদনে ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থা খানে মিল্লাতের প্রধান মেহেদী রহিমির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জোটে যোগ দেওয়ার জন্য তেহরান ইতোমধ্যে একটি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে। বর্তমানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির মূল বিষয় হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা। এর আওতায় জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তবে তুরস্ক জানিয়েছে, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য নয়। বরং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

ইতোমধ্যে তিন দেশ নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভবিষ্যতে মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইরানও জোট গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান দেখিয়েছে। গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

তবে ইরান শেষ পর্যন্ত এই জোটে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান একই সামরিক কাঠামোর অংশ হলে তা হবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য এই সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।