ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাগের ভেতর থেকে নবজাতক উদ্ধার, শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। উদ্ধারের সময়ও শিশুটির নাড়ি কাটা হয়নি। শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে একটি দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দোকানদার বাবুল ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে জানান। খবর পেয়ে তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী কামরুজ্জামানকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাগ খুলে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তখনো শিশুটির নাড়ি নাভির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও পিঁপড়া লেগে ছিল।

উদ্ধারের পর দ্রুত শিশুটিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদানের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তারিফ হাওলাদান বলেন, নবজাতকটিকে এমন অবস্থায় দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় শিশুটিকে বড় করতে চান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।

শিশুটির জন্মদাতা মা-বাবার পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও আইনগত অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের উদ্যোগ চেয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাগের ভেতর থেকে নবজাতক উদ্ধার, শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। উদ্ধারের সময়ও শিশুটির নাড়ি কাটা হয়নি। শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে একটি দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দোকানদার বাবুল ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে জানান। খবর পেয়ে তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী কামরুজ্জামানকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাগ খুলে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তখনো শিশুটির নাড়ি নাভির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও পিঁপড়া লেগে ছিল।

উদ্ধারের পর দ্রুত শিশুটিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদানের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তারিফ হাওলাদান বলেন, নবজাতকটিকে এমন অবস্থায় দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় শিশুটিকে বড় করতে চান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।

শিশুটির জন্মদাতা মা-বাবার পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও আইনগত অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের উদ্যোগ চেয়েছেন স্থানীয়রা।