ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহযুদ্ধের পথে কি ইসরাইল?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ‘আলতালেনা’ ঘটনা। পুরোনো সেই ঘটনার স্মৃতি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের তলদেশ থেকে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতীক হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। যার মূল বার্তা—‘আর কখনো গৃহযুদ্ধ নয়।’

২৪ আগস্ট তেলআবিবের সমুদ্রতীরে ইতজেল জাদুঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এ ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু।

১৯৪৮ সালে ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন ইতজেলের ‘আলতালেনা’ জাহাজটি ৯০০-এর বেশি অভিবাসী, চিকিৎসাসামগ্রী ও বিপুল অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে। তবে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সংগঠনটির সঙ্গে সদ্য গঠিত ইসরাইলি সরকারের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে তেলআবিব উপকূলে জাহাজটিতে গোলাবর্ষণ করা হয়। পরে জাহাজে থাকা ইতজেল নেতা মেনাখেম বেগিন তার অনুসারীদের পালটা হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, সংঘাতটি গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ‘আলতালেনা’ ইসরাইলের ডানপন্থিদের কাছে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতীক। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন বামপন্থি নেতৃত্ব নিজেদের দেশের ইহুদিদের বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগ করেছিল।

তবে প্রশ্ন হলো—নেতানিয়াহু যখন আবার ‘গৃহযুদ্ধ নয়’ বার্তা সামনে আনছেন, তখন কি সত্যিই ইসরাইল গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে?

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এমন আশঙ্কা এখনো খুবই কম। কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইসরাইলি সমাজে নিরাপত্তার মতো কিছু মৌলিক বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান তৈরি হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অধিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতিতে বড় ধরনের মতৈক্যও রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের একাংশের ক্ষোভ থাকলেও তার সরকারের নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। ফলে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হলেও তা এখনো সশস্ত্র সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বরং ইসরাইলি রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে ঘিরে যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, সেটিই অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সীমিত রাখছে।

তাই ‘আলতালেনা’কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন করে বাড়লেও, ইসরাইল শিগগিরই গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি খুব বেশি নেই। নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগে ঐক্যের আহ্বানের পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের একটি পরোক্ষ বার্তাও রয়েছে—ইসরাইল তার ইতিহাস ভুলে যায়নি ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গৃহযুদ্ধের পথে কি ইসরাইল?

আপডেট সময় ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ‘আলতালেনা’ ঘটনা। পুরোনো সেই ঘটনার স্মৃতি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের তলদেশ থেকে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতীক হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। যার মূল বার্তা—‘আর কখনো গৃহযুদ্ধ নয়।’

২৪ আগস্ট তেলআবিবের সমুদ্রতীরে ইতজেল জাদুঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এ ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু।

১৯৪৮ সালে ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন ইতজেলের ‘আলতালেনা’ জাহাজটি ৯০০-এর বেশি অভিবাসী, চিকিৎসাসামগ্রী ও বিপুল অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে। তবে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সংগঠনটির সঙ্গে সদ্য গঠিত ইসরাইলি সরকারের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে তেলআবিব উপকূলে জাহাজটিতে গোলাবর্ষণ করা হয়। পরে জাহাজে থাকা ইতজেল নেতা মেনাখেম বেগিন তার অনুসারীদের পালটা হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, সংঘাতটি গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ‘আলতালেনা’ ইসরাইলের ডানপন্থিদের কাছে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতীক। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন বামপন্থি নেতৃত্ব নিজেদের দেশের ইহুদিদের বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগ করেছিল।

তবে প্রশ্ন হলো—নেতানিয়াহু যখন আবার ‘গৃহযুদ্ধ নয়’ বার্তা সামনে আনছেন, তখন কি সত্যিই ইসরাইল গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে?

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এমন আশঙ্কা এখনো খুবই কম। কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইসরাইলি সমাজে নিরাপত্তার মতো কিছু মৌলিক বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান তৈরি হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অধিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতিতে বড় ধরনের মতৈক্যও রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের একাংশের ক্ষোভ থাকলেও তার সরকারের নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। ফলে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হলেও তা এখনো সশস্ত্র সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বরং ইসরাইলি রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে ঘিরে যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, সেটিই অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সীমিত রাখছে।

তাই ‘আলতালেনা’কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন করে বাড়লেও, ইসরাইল শিগগিরই গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি খুব বেশি নেই। নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগে ঐক্যের আহ্বানের পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের একটি পরোক্ষ বার্তাও রয়েছে—ইসরাইল তার ইতিহাস ভুলে যায়নি ।