ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎকর্মীকে ধরে কসম খাওয়াল গ্রামবাসী বিএনপি নেতা ইসহাক হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমর শ্যোন অ্যারেস্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট নতুন কমিটি নিয়ে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানাদার বাহিনীর মতই আচরণ করেছে শেখ হাসিনা সরকার: ইশরাক

আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য বছরের পর বছর চোখের পানি ফেলতে হবে না।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মানুষকে গুম করা মানে শুধু তাকে পরিবারের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া নয়; ধ্বংস করে দেওয়া একটি পরিবারের স্বপ্ন, শান্তি ও ভবিষ্যৎ। বিগত দেড় দশকে ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চুপ করতে গুম এবং গোপন বন্দিশালার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক অধ্যায়।

গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত।

তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ ক্ষমতাবান যে-ই হোক, গুমের সঙ্গে জড়িত কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদের বিচার করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারগুলোর চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না।

সবশেষে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু

আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য বছরের পর বছর চোখের পানি ফেলতে হবে না।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মানুষকে গুম করা মানে শুধু তাকে পরিবারের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া নয়; ধ্বংস করে দেওয়া একটি পরিবারের স্বপ্ন, শান্তি ও ভবিষ্যৎ। বিগত দেড় দশকে ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চুপ করতে গুম এবং গোপন বন্দিশালার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক অধ্যায়।

গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত।

তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ ক্ষমতাবান যে-ই হোক, গুমের সঙ্গে জড়িত কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদের বিচার করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারগুলোর চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না।

সবশেষে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’