ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করলো জামায়াত, জানা গেল কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি সত্ত্বেও ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের কর্মসূচি ডাকবে জামায়াত, তাতে ঢুকে পড়বে আওয়ামী লীগ বললেন রাশেদ খাঁন ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ বলার পর ‘লেক অন্টারিও’ সাইনবোর্ড বসাল কানাডা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের চুড়ান্ত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করলো জামায়াত ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎকর্মীকে ধরে কসম খাওয়াল গ্রামবাসী বিএনপি নেতা ইসহাক হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমর শ্যোন অ্যারেস্ট

ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলাকেঅপরাধমূলক সহিংসতাআখ্যা দিয়ে বিরল নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার (২৯ আগস্ট) উত্তর পশ্চিম তীরের কুসরা ও জালুদ গ্রামে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুসরা ও জালুদ গ্রামে একদল দাঙ্গাবাজের চালানো অপরাধমূলক সহিংসতার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। তারা আইন ভঙ্গ করছে, আইন মান্যকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর মারাত্মক অবিচার করছে, আইডিএফের (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী ও সামরিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় শনিবার কুসরা গ্রামে হামলা চালায় কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসেফ আবদুল করিম হাসান জানান, কয়েকজন গ্রামবাসী একটি বাড়িতে কাজ করার সময় প্রথমে একদল বসতি স্থাপনকারী এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আরও বেশিসংখ্যক উগ্র বসতি স্থাপনকারীকে জড়ো করে বাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এর আগে চলতি আগস্ট মাসের শুরুর দিকে নাবলুসের নিকটবর্তী এই গ্রামের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে খাবার ও জরুরি রসদ সরবরাহ বন্ধ করে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তারা।

সহিংসতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পায় উগ্র দাঙ্গাবাজরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দাদের ঘিরে রেখে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এই ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহে বেশ কয়েকটি যানবাহন জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এলাকাটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন বসতিতে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক বসবাস করছেন। অঞ্চলটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা ব্যাপক রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৮ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করলো জামায়াত, জানা গেল কারণ

ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ০৪:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলাকেঅপরাধমূলক সহিংসতাআখ্যা দিয়ে বিরল নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার (২৯ আগস্ট) উত্তর পশ্চিম তীরের কুসরা ও জালুদ গ্রামে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুসরা ও জালুদ গ্রামে একদল দাঙ্গাবাজের চালানো অপরাধমূলক সহিংসতার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। তারা আইন ভঙ্গ করছে, আইন মান্যকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর মারাত্মক অবিচার করছে, আইডিএফের (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী ও সামরিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় শনিবার কুসরা গ্রামে হামলা চালায় কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসেফ আবদুল করিম হাসান জানান, কয়েকজন গ্রামবাসী একটি বাড়িতে কাজ করার সময় প্রথমে একদল বসতি স্থাপনকারী এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আরও বেশিসংখ্যক উগ্র বসতি স্থাপনকারীকে জড়ো করে বাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এর আগে চলতি আগস্ট মাসের শুরুর দিকে নাবলুসের নিকটবর্তী এই গ্রামের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে খাবার ও জরুরি রসদ সরবরাহ বন্ধ করে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তারা।

সহিংসতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পায় উগ্র দাঙ্গাবাজরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দাদের ঘিরে রেখে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এই ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহে বেশ কয়েকটি যানবাহন জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এলাকাটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন বসতিতে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক বসবাস করছেন। অঞ্চলটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা ব্যাপক রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৮ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন।