ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘ঘরের বাজার’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খালিদুজ্জামানের কর্মকাণ্ডকে ‘তৃতীয় শ্রেণির সস্তা রাজনীতি’ বললেন মির্জা গালিব মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে জামায়াত নেতা, শ্বশুরের চিৎকারে ধরা কিছু মনে করবেন না বলে, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে যা বললেন ওমর সানী

আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৮০২ বার পড়া হয়েছে

আজ পয়লা জুলাই। ঠিক দুই বছর আগে এই দিন থেকেই নতুন গতি পেয়েছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত আন্দোলন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। টানা ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ঘটে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামেন। তাদের দাবি ছিল—কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মোড় আসে। পরদিন থেকেই সারা দেশে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সব বড় শহরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে। মোবাইল ইন্টারনেট ও পরে ব্রডব্যান্ড সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবং আগস্টের শুরুতে গণমিছিল, শহীদ মিনারে সমাবেশ ও এক দফা দাবির ঘোষণা আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

৫ আগস্ট লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাজপথে। সেদিনই ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন, আর শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য, ত্যাগ আর প্রত্যাশা—সেগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে দেশ। জুলাই তাই শুধু স্মৃতির নয়, আত্মসমালোচনা আর ভবিষ্যৎ ভাবনারও একটি মাস।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও

আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

আপডেট সময় ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আজ পয়লা জুলাই। ঠিক দুই বছর আগে এই দিন থেকেই নতুন গতি পেয়েছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত আন্দোলন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। টানা ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ঘটে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামেন। তাদের দাবি ছিল—কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মোড় আসে। পরদিন থেকেই সারা দেশে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সব বড় শহরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে। মোবাইল ইন্টারনেট ও পরে ব্রডব্যান্ড সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবং আগস্টের শুরুতে গণমিছিল, শহীদ মিনারে সমাবেশ ও এক দফা দাবির ঘোষণা আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

৫ আগস্ট লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাজপথে। সেদিনই ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন, আর শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য, ত্যাগ আর প্রত্যাশা—সেগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে দেশ। জুলাই তাই শুধু স্মৃতির নয়, আত্মসমালোচনা আর ভবিষ্যৎ ভাবনারও একটি মাস।