চট্টগ্রামকে আগামী ২৫ বছরে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—চউক।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে চউক জানায়, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে আগামী ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগরবাসীর মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে। নাগরিকরা সরাসরি চউক কার্যালয়ে কিংবা অনলাইনের ওয়েব-জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন।
পরিকল্পনায় মূল নগরীর চাপ কমাতে বহুকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল গ্রহণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে আনোয়ারায় বাস্তবায়ন হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণা। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি নতুন খাল খননের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
চউক জানায়, প্রায় ৩ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, ড্রেনেজ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ ১৯টি খাতে মোট ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। উন্নয়নের নামে পাহাড় বা প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এছাড়া আবাসিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে চউক। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং নগরবাসীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, সবুজ ও আন্তর্জাতিক মানের মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















