ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দু কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে যে বার্তা দিল ইরান আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদের সম্ভাবনা নেই: মহাসচিব ‎রাজধানীর উত্তর সিটি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হলে ১৯৭২-এর সংবিধান বাতিল করতে হবে: ফরহাদ মজহার জুলাই সনদ-বিচার ইস্যুতে তোপের মুখে মাহদী আমিন ‘ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে’ ঢাকা মাতাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম ইসরায়েলে তীব্র তাপপ্রবাহ, সতর্কতা জারি

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলে আলোচনায় জামায়াত নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে ২০ বছর ধরে সরকারি বেতনভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। যার টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে তিনি হলেন জুনিয়র শিক্ষক মৃত মহিউদ্দিন। একই নাম হওয়ায় তার (মৃত ব্যক্তির) ইনডেক্স ব্যবহার করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। 

২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালের নিয়োগে বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা শুরু করেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন। ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ওই হিসাব নম্বর থেকেই বেতনভাতা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে মাদরাসার সুপার বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার কাছে ধরা পড়ে। এরপর মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত আবেদন করে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। একইসঙ্গে তদন্ত করে এ ঘটনার বিচার চেয়েছি। আমার মতে গত ২০ বছর ধরে লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। যা সরকারের টাকা। তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। একইসঙ্গে সরকারও ওই টাকা ফেরত পাবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।তবে কোন হিসাব নম্বর থেকে বেতন তুলতেন এর জবাব না দিয়েই ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি টাকা ফেরতসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলে আলোচনায় জামায়াত নেতা

আপডেট সময় ১০:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

এবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে ২০ বছর ধরে সরকারি বেতনভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। যার টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে তিনি হলেন জুনিয়র শিক্ষক মৃত মহিউদ্দিন। একই নাম হওয়ায় তার (মৃত ব্যক্তির) ইনডেক্স ব্যবহার করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। 

২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালের নিয়োগে বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা শুরু করেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন। ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ওই হিসাব নম্বর থেকেই বেতনভাতা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে মাদরাসার সুপার বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার কাছে ধরা পড়ে। এরপর মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত আবেদন করে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। একইসঙ্গে তদন্ত করে এ ঘটনার বিচার চেয়েছি। আমার মতে গত ২০ বছর ধরে লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। যা সরকারের টাকা। তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। একইসঙ্গে সরকারও ওই টাকা ফেরত পাবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।তবে কোন হিসাব নম্বর থেকে বেতন তুলতেন এর জবাব না দিয়েই ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি টাকা ফেরতসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।