ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দু কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে যে বার্তা দিল ইরান আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদের সম্ভাবনা নেই: মহাসচিব ‎রাজধানীর উত্তর সিটি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হলে ১৯৭২-এর সংবিধান বাতিল করতে হবে: ফরহাদ মজহার জুলাই সনদ-বিচার ইস্যুতে তোপের মুখে মাহদী আমিন ‘ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে’ ঢাকা মাতাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম ইসরায়েলে তীব্র তাপপ্রবাহ, সতর্কতা জারি

খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা যেন তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাগর রবিদাস। আর বাবার ঠিক পাশেই বই হাতে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে তার ছোট ছেলে প্রিয়জিত রবিদাস। ছোট্ট এই শিক্ষার্থীর একটাই স্বপ্ন—একদিন বড় হয়ে চিকিৎসক হবে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়জিত বর্তমানে মানিকগঞ্জ ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। তার বাবা সাগর রবিদাস দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন। নিজে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্কুল শেষে প্রিয়জিত বাবার কর্মস্থলে চলে আসে। বাবার পাশে বসেই বই খুলে পড়াশোনা করে, আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাগর রবিদাসও ছেলেকে যতটুকু পারেন সহযোগিতা করেন।

শুধু প্রিয়জিত নয়, তার ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়াও পড়াশোনার প্রতি সমান আগ্রহী। শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির এই শিক্ষার্থীও প্রায়ই বাবার কর্মস্থলে বসে লেখাপড়া করে।

চার সদস্যের এই পরিবারের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহন করা তাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে আসেননি সাগর রবিদাস ও তার স্ত্রী শিল্পী রবিদাস। প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিরলসভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, সাগর রবিদাসের সংগ্রামী জীবন এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, সাগর রবিদাসের স্বপ্ন তার সন্তানদের ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত

খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত

আপডেট সময় ০৫:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা যেন তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাগর রবিদাস। আর বাবার ঠিক পাশেই বই হাতে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে তার ছোট ছেলে প্রিয়জিত রবিদাস। ছোট্ট এই শিক্ষার্থীর একটাই স্বপ্ন—একদিন বড় হয়ে চিকিৎসক হবে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়জিত বর্তমানে মানিকগঞ্জ ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। তার বাবা সাগর রবিদাস দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন। নিজে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্কুল শেষে প্রিয়জিত বাবার কর্মস্থলে চলে আসে। বাবার পাশে বসেই বই খুলে পড়াশোনা করে, আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাগর রবিদাসও ছেলেকে যতটুকু পারেন সহযোগিতা করেন।

শুধু প্রিয়জিত নয়, তার ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়াও পড়াশোনার প্রতি সমান আগ্রহী। শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির এই শিক্ষার্থীও প্রায়ই বাবার কর্মস্থলে বসে লেখাপড়া করে।

চার সদস্যের এই পরিবারের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহন করা তাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে আসেননি সাগর রবিদাস ও তার স্ত্রী শিল্পী রবিদাস। প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিরলসভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, সাগর রবিদাসের সংগ্রামী জীবন এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, সাগর রবিদাসের স্বপ্ন তার সন্তানদের ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।