ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিদায়ের নেপথ্যের সেই সিদ্ধান্ত, ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

 

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল কোর্টে ইরানি-আমেরিকান নাগরিক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল করে দেয়, যা ছিল ‘স্পষ্ট বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত। আফরাসিয়াবির দাবি, ওই গোলটি বহাল থাকলে ইরান ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে পারত।

 

মামলায় বলা হয়েছে, ‘ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকেরা তাদের প্রিয় জাতীয় দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বৈষম্যের কারণে মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছেন।’

 

৬৮ বছর বয়সী লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ভিএআরের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান দলকে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার দাবি, টুর্নামেন্টের শুরুতে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে রাতযাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং দলের ১১ সদস্যের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

 

আফরাসিয়াবির মতে, এসব পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য সমান অনুশীলন ও প্রস্তুতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফিফার উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের এসব আচরণ ইরানের কোটি কোটি নাগরিকের মতো তাকেও গভীরভাবে অপমানিত করেছে।

 

মামলায় জয়ী হলে ক্ষতিপূরণের অর্থের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে চলমান এই মামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

 

উল্লেখ্য, এটি ফিফার বিরুদ্ধে ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের প্রথম মামলা নয়। এর আগে, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি মামলায় গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ফিফার পক্ষে রায় দেয়। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিদায়ের নেপথ্যের সেই সিদ্ধান্ত, ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

আপডেট সময় ১২:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

 

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল কোর্টে ইরানি-আমেরিকান নাগরিক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল করে দেয়, যা ছিল ‘স্পষ্ট বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত। আফরাসিয়াবির দাবি, ওই গোলটি বহাল থাকলে ইরান ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে পারত।

 

মামলায় বলা হয়েছে, ‘ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকেরা তাদের প্রিয় জাতীয় দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বৈষম্যের কারণে মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছেন।’

 

৬৮ বছর বয়সী লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ভিএআরের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান দলকে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার দাবি, টুর্নামেন্টের শুরুতে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে রাতযাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং দলের ১১ সদস্যের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

 

আফরাসিয়াবির মতে, এসব পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য সমান অনুশীলন ও প্রস্তুতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফিফার উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের এসব আচরণ ইরানের কোটি কোটি নাগরিকের মতো তাকেও গভীরভাবে অপমানিত করেছে।

 

মামলায় জয়ী হলে ক্ষতিপূরণের অর্থের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে চলমান এই মামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

 

উল্লেখ্য, এটি ফিফার বিরুদ্ধে ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের প্রথম মামলা নয়। এর আগে, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি মামলায় গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ফিফার পক্ষে রায় দেয়। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ।