ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির

ইরানে আফগান শরণার্থীদের ধরপাকড় বেড়েছে: যুদ্ধের গরমে ‘গুপ্তচর’ অপবাদ, জাতিসংঘের উদ্বেগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • ৪০৫ বার পড়া হয়েছে

ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ভেতরে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও নির্বাসন অভিযানের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে— সম্প্রতি আফগানিস্তানে ফেরত যাওয়া শরণার্থীদের অন্তত ৭০ শতাংশকে জোরপূর্বক পাঠানো হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।

ইরানে অবস্থানরত আফগানদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এখন ‘ইসরায়েলি গুপ্তচর’ অপবাদে রাস্তাঘাটে অপমানের শিকার হচ্ছেন। দোকান, হাটবাজার, এমনকি বাসার কাজেও কাজ হারাচ্ছেন তারা। সামাজিক মাধ্যমেও চলছে বর্ণবাদী প্রচারণা

  • শুধু জুন মাসেই ইরান ছেড়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আফগান

  • ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইরান ও পাকিস্তান থেকে এক কোটির কাছাকাছি আফগানকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে বা নির্বাসিত করা হয়েছে।

  • জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ২০ লাখ আফগান রয়েছেন বিনা কাগজপত্রে, আর মোট আফগান অভিবাসীর সংখ্যা ৬০ লাখের কাছাকাছি

ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর সময় ৫ হাজারের বেশি শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যাদের অনেকেই এখন নিখোঁজ। চেকপোস্টে তাদের মোবাইল, নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এক আফগান অভিবাসী জানান,

“এমনকি ক্ষুদ্র কারখানাগুলোতেও হানা দিচ্ছে পুলিশ। বৈধ কাগজ থাকলেও রেহাই নেই।”

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিকান্দার মোমেনি স্বীকার করেছেন,

“আফগানরা পরিশ্রমী, কিন্তু আমাদের দেশে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা গত দুই-তিন বছরে এসেছে, তাদের অনেকেই সন্দেহজনক।”

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আফগানদের একটি অংশ ইরানে “বিশেষ উদ্দেশ্য” নিয়ে এসেছে বলে সরকারের ধারণা।

জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ‘অবৈধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন উত্তেজনায় ইরান “ঘরের ভেতরের শত্রু খোঁজার” খেলায় মেতেছে, আর শিকার হচ্ছে দারিদ্র্যপীড়িত ও নিঃসঙ্গ আফগান শরণার্থীরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান

ইরানে আফগান শরণার্থীদের ধরপাকড় বেড়েছে: যুদ্ধের গরমে ‘গুপ্তচর’ অপবাদ, জাতিসংঘের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১২:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ভেতরে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও নির্বাসন অভিযানের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে— সম্প্রতি আফগানিস্তানে ফেরত যাওয়া শরণার্থীদের অন্তত ৭০ শতাংশকে জোরপূর্বক পাঠানো হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।

ইরানে অবস্থানরত আফগানদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এখন ‘ইসরায়েলি গুপ্তচর’ অপবাদে রাস্তাঘাটে অপমানের শিকার হচ্ছেন। দোকান, হাটবাজার, এমনকি বাসার কাজেও কাজ হারাচ্ছেন তারা। সামাজিক মাধ্যমেও চলছে বর্ণবাদী প্রচারণা

  • শুধু জুন মাসেই ইরান ছেড়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আফগান

  • ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইরান ও পাকিস্তান থেকে এক কোটির কাছাকাছি আফগানকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে বা নির্বাসিত করা হয়েছে।

  • জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ২০ লাখ আফগান রয়েছেন বিনা কাগজপত্রে, আর মোট আফগান অভিবাসীর সংখ্যা ৬০ লাখের কাছাকাছি

ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর সময় ৫ হাজারের বেশি শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যাদের অনেকেই এখন নিখোঁজ। চেকপোস্টে তাদের মোবাইল, নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এক আফগান অভিবাসী জানান,

“এমনকি ক্ষুদ্র কারখানাগুলোতেও হানা দিচ্ছে পুলিশ। বৈধ কাগজ থাকলেও রেহাই নেই।”

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিকান্দার মোমেনি স্বীকার করেছেন,

“আফগানরা পরিশ্রমী, কিন্তু আমাদের দেশে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা গত দুই-তিন বছরে এসেছে, তাদের অনেকেই সন্দেহজনক।”

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আফগানদের একটি অংশ ইরানে “বিশেষ উদ্দেশ্য” নিয়ে এসেছে বলে সরকারের ধারণা।

জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ‘অবৈধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন উত্তেজনায় ইরান “ঘরের ভেতরের শত্রু খোঁজার” খেলায় মেতেছে, আর শিকার হচ্ছে দারিদ্র্যপীড়িত ও নিঃসঙ্গ আফগান শরণার্থীরা।