২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ইতোমধ্যে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। আর এই দিনেই দেশজুড়ে সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শেষ অধ্যায়।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে ওঠে। যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে। একই সঙ্গে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরেও।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হন। আহত হন আরও অসংখ্য আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মাঠে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ৪ আগস্ট সন্ধ্যার আগেই সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয় টানা তিন দিনের সাধারণ ছুটি।
এদিকে, আন্দোলনের সমান্তরালে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তী সরকারের একটি রূপরেখা প্রকাশ করে। একই সময়ে শাহবাগে সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
প্রথমে কর্মসূচিটি ৬ আগস্ট পালনের কথা থাকলেও, দেশের দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় তা একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান। অন্য সমন্বয়করাও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে গণভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন।
এরপরের দিন, ৫ আগস্ট, লাখো মানুষের ঢাকামুখী পদযাত্রার মধ্য দিয়ে ঘটে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















