ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আদালতে যাচ্ছে ভারত

ইরান ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক’, আলোচনার জন্য ‘আকুতি’ জানিয়ে এখন অস্বীকার করছে: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না—তেহরানের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সামনে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষায়, ইরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও পর্দার আড়ালে তারা বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের নেতৃত্ব অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক। তারা বৈঠকের অনুরোধ করেছে, অথচ প্রকাশ্যে গর্ব করে বলছে, কোনো আলোচনা হচ্ছে না; তারা শুধু ওমানের সঙ্গে কথা বলছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও তাদের আরোপিত অবরোধের হাতে রয়েছে। কোনো চুক্তি না হলে বা ইরান ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না করা পর্যন্ত দেশটিতে কিছুই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।”

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে চলমান পরোক্ষ যোগাযোগের বাইরে নতুন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তাদের দাবি, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সীমিত পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান কেবল ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মঙ্গলবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। ভালো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই ইরানের শেষ সুযোগ।”

ট্রাম্প আরও জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তাঁর দাবি, রোববার ইরানের ওপর ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিতেই সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে, ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সেই সমঝোতা হলেও প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এই দুই ইস্যুতেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি-পাল্টা দাবি চললেও সংঘাত নিরসন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

ইরান ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক’, আলোচনার জন্য ‘আকুতি’ জানিয়ে এখন অস্বীকার করছে: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না—তেহরানের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সামনে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষায়, ইরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও পর্দার আড়ালে তারা বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের নেতৃত্ব অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক। তারা বৈঠকের অনুরোধ করেছে, অথচ প্রকাশ্যে গর্ব করে বলছে, কোনো আলোচনা হচ্ছে না; তারা শুধু ওমানের সঙ্গে কথা বলছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও তাদের আরোপিত অবরোধের হাতে রয়েছে। কোনো চুক্তি না হলে বা ইরান ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না করা পর্যন্ত দেশটিতে কিছুই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।”

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে চলমান পরোক্ষ যোগাযোগের বাইরে নতুন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তাদের দাবি, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সীমিত পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান কেবল ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মঙ্গলবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। ভালো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই ইরানের শেষ সুযোগ।”

ট্রাম্প আরও জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তাঁর দাবি, রোববার ইরানের ওপর ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিতেই সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে, ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সেই সমঝোতা হলেও প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এই দুই ইস্যুতেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি-পাল্টা দাবি চললেও সংঘাত নিরসন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।