বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডকে সামলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপার কম্পিউটার এই ম্যাচে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে। ২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন চালিয়ে অপটার হিসাব বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২ দশমিক ৪ শতাংশ আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো তথা ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায়ও এগিয়ে সেলেসাওরা। অপটার হিসাবে ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ ষোলোর ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে সেলেসাওরা। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১–০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। অন্যদিকে নরওয়েও বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। শেষ ৩২–এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় তারা। জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫। ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল নজির গড়বেন হালান্ড। ১৯৯৮ সালে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে এই অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। হালান্ডের পেছনে রয়েছেন সৃজনশীল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করা আর্সেনাল তারকা টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচেও অ্যাসিস্ট করলে নতুন রেকর্ড গড়বেন।
অবশ্য নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল খুব একটা স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে ২–১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় পায় আনচেলত্তির দল। ম্যাচে ব্রাজিলের প্রথম গোলটি করেছিলেন অভিজ্ঞ কাসেমিরো। সেই ম্যাচে আরও একবার মাঝমাঠে আলো ছড়ান ব্রুনো গিমারায়েস। মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে নিয়ে যান তিনি। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট আছে কেবল কিংবদন্তি পেলের (১৯৭০ আসরে ছয়টি অ্যাসিস্ট)।
তবে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকতেই পারে আনচেলত্তির। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ব্রাজিল গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৫টি শট নিয়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নরওয়ের বড় চিন্তা তাদের রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি গোল হজমও করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহাদের মতো দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে এমন রক্ষণাত্মক দুর্বলতা ভোগাতে পারে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের। তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না। দুই দলের আগের চার দেখায় দুই জয় ও দুই ড্রয়ে অপরাজিত রয়েছে নরওয়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা। এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ডও বেশ হতাশাজনক। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। আজ সেই জুজু কাটানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















