ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, আদৌ কি তা সম্ভব? জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার রক্তাক্ত সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং জাতীয় পতাকা দিয়েছে। আর জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীন দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই। মুক্তিযুদ্ধই জাতির ভিত্তি, আর জুলাই সেই ভিত্তিকে রক্ষার সংগ্রাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সেই একই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। সার্বভৌমত্ব শুধু সীমান্ত বা মানচিত্রের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণই নেবে। দেশ কোনো স্বৈরশক্তি বা বিদেশি হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না।

জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র তাদের কাছে ঋণী। শুধু স্মরণসভা বা ফুল দিয়ে সেই ঋণ শোধ হবে না; সত্য প্রতিষ্ঠা, পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকারীদের বিচারই হবে প্রকৃত দায়িত্ব পালন।

জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ইশরাক হোসেন বলেন, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী, সহযোগী কিংবা অপরাধীদের পালাতে সহায়তাকারী—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। এই বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়াই গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার ওপরও জোর দেন তিনি।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো আহত যোদ্ধা চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং কোনো শহীদ পরিবার অবহেলিত থাকবে না। পাশাপাশি জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ শিখিয়েছে পরাধীনতার কাছে মাথা নত করা যায় না, আর জুলাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে স্বাধীন দেশে স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছেও মাথা নত করা যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; বাংলাদেশের মালিক দেশের জনগণ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, আদৌ কি তা সম্ভব?

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

আপডেট সময় ০৫:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার রক্তাক্ত সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং জাতীয় পতাকা দিয়েছে। আর জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীন দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই। মুক্তিযুদ্ধই জাতির ভিত্তি, আর জুলাই সেই ভিত্তিকে রক্ষার সংগ্রাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সেই একই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। সার্বভৌমত্ব শুধু সীমান্ত বা মানচিত্রের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণই নেবে। দেশ কোনো স্বৈরশক্তি বা বিদেশি হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না।

জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র তাদের কাছে ঋণী। শুধু স্মরণসভা বা ফুল দিয়ে সেই ঋণ শোধ হবে না; সত্য প্রতিষ্ঠা, পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকারীদের বিচারই হবে প্রকৃত দায়িত্ব পালন।

জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ইশরাক হোসেন বলেন, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী, সহযোগী কিংবা অপরাধীদের পালাতে সহায়তাকারী—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। এই বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়াই গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার ওপরও জোর দেন তিনি।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো আহত যোদ্ধা চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং কোনো শহীদ পরিবার অবহেলিত থাকবে না। পাশাপাশি জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ শিখিয়েছে পরাধীনতার কাছে মাথা নত করা যায় না, আর জুলাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে স্বাধীন দেশে স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছেও মাথা নত করা যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; বাংলাদেশের মালিক দেশের জনগণ।