ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?: রাশেদ খান আমরা আর শীর্ষ সারির দল নই: জার্মানি কোচ খুচরার অভাবে ৮০ পয়সা বেশি দিয়ে সিগারেট কিনতে হচ্ছে ৪ বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর খুশিতে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়ে ইরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে পেল যুক্তরাষ্ট্র মায়ের পথ ধরে বিশ্বকাপে ছেলে, গড়লেন ইতিহাস বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, তবু গ্যালারি পরিষ্কার করে প্রশংসায় ভাসলেন জাপানি ভক্তরা আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি এবার ভারতের হাত কেটে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের এবার ব্রাজিলকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করলেন রুমিন ফারহানা

ঢাবিতে ডাকসু নির্বাচন: নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির জন্মভূমি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ফ্যাসিস্ট বিরোধী গণজাগরণ—সবকিছুরই সূতিকাগার এই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার ছাত্র রাজনীতি দেশের নেতৃত্ব গড়ে তুলেছে, আর ডাকসু নির্বাচন ছিল জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের সময় সর্বশেষ সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং অল্প সময় পর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিও ক্ষমতায় আসে। একইভাবে ১৯৯৭ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ছাত্রদল। কিন্তু এর পর থেকে দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।

২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ঢাবিতে নির্বাচন আয়োজন করলেও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সাধারণ ছাত্রদের ভোটে আলোচিত কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর জয়লাভ করলে সেটি সরকারপক্ষ সহজভাবে নিতে পারেনি। এরপর আবারো ক্যাম্পাসগুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমগ্র জাতি এবার অপেক্ষায় আছে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর ভোটের। প্রায় দুই দশক পর শিক্ষাঙ্গনে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, তা অনেককেই আশাবাদী করে তুলেছে।

ঢাবির পর ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর (জাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ চলছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত। তবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ—যা দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক ও বেমানান বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব বিকাশ সম্ভব নয়। কো-কারিকুলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও ভবিষ্যতের সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য গণতান্ত্রিক চর্চার বিকল্প নেই।

এবারের ডাকসু নির্বাচন তাই শুধু একটি ছাত্র সংসদের ভোট নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শুরু হবে গণতন্ত্রের নতুন ভোর।

লেখক: সাইফুল্লাহ, বার্তা সম্পাদক, বিডি২৪রিপোর্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?: রাশেদ খান

ঢাবিতে ডাকসু নির্বাচন: নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

আপডেট সময় ১২:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির জন্মভূমি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ফ্যাসিস্ট বিরোধী গণজাগরণ—সবকিছুরই সূতিকাগার এই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার ছাত্র রাজনীতি দেশের নেতৃত্ব গড়ে তুলেছে, আর ডাকসু নির্বাচন ছিল জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের সময় সর্বশেষ সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং অল্প সময় পর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিও ক্ষমতায় আসে। একইভাবে ১৯৯৭ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ছাত্রদল। কিন্তু এর পর থেকে দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।

২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ঢাবিতে নির্বাচন আয়োজন করলেও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সাধারণ ছাত্রদের ভোটে আলোচিত কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর জয়লাভ করলে সেটি সরকারপক্ষ সহজভাবে নিতে পারেনি। এরপর আবারো ক্যাম্পাসগুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমগ্র জাতি এবার অপেক্ষায় আছে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর ভোটের। প্রায় দুই দশক পর শিক্ষাঙ্গনে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, তা অনেককেই আশাবাদী করে তুলেছে।

ঢাবির পর ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর (জাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ চলছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত। তবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ—যা দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক ও বেমানান বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব বিকাশ সম্ভব নয়। কো-কারিকুলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও ভবিষ্যতের সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য গণতান্ত্রিক চর্চার বিকল্প নেই।

এবারের ডাকসু নির্বাচন তাই শুধু একটি ছাত্র সংসদের ভোট নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শুরু হবে গণতন্ত্রের নতুন ভোর।

লেখক: সাইফুল্লাহ, বার্তা সম্পাদক, বিডি২৪রিপোর্ট