ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, সাফ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহস থাকলে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠিয়ে দেখাক: আইআরজিসি যুদ্ধের ভালো খবর দেখাও, নয়তো লাইসেন্স বাতিল: ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি শক্তিশালী ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করল ইরান ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ট্রাম্প দুবাই ও দোহা’র কিছু জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বলল ইরান জাপানের মিতসুইয়ের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বে স্বপ্ন হাদি হত্যার বিচার বিলম্বের কারণ জানালেন আসিফ নজরুল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা বাদে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত: ইরান

তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতন করেছিল ডিজিএফআই: সাবেক সেনাপ্রধান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

গত ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হতোএমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গুমখুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। এতে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করা যায়এমন মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভেঙে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন। ওই সময় অনেক মন্ত্রীএমপির নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জবানবন্দিতে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন সাবেক সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগের ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জনহার্ট অ্যাটাকেমারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যতলাইসেন্স টু কিল’-এর সমতুল্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিন শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল১। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দি দিচ্ছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, সাফ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতন করেছিল ডিজিএফআই: সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট সময় ০৫:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হতোএমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গুমখুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। এতে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করা যায়এমন মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভেঙে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন। ওই সময় অনেক মন্ত্রীএমপির নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জবানবন্দিতে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন সাবেক সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগের ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জনহার্ট অ্যাটাকেমারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যতলাইসেন্স টু কিল’-এর সমতুল্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিন শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল১। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দি দিচ্ছেন।