ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানাল সুপার কম্পিউটার ‘আর্জেন্টিনা জেতেনি’, মেসিদের বোর্ড থেকেই সাংবাদিকদের ই-মেইল দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে: ফয়জুল করীম বরিশালে থানাহাজতে সেদিন যা ঘটেছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল মোহাম্মদপুরে ভবনের একাংশে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর এমপির গাড়ি সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গোল না খাওয়া স্পেনের সামনে বেলজিয়ামের গোলঝড়

গাজার জন্য প্রস্তুত ৪০ হাজার প্রতিরোধ যোদ্ধা!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

এবার গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তথাকথিত “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান” কার্যত পরিণত হয়েছে ইতিহাসের এক ভয়াবহ গণহত্যার অধ্যায়ে। গত ২১ মাসে এই আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৭,০০০ বেসামরিক ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন লক্ষাধিক। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে আসছে, তারা ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস সাধন করেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল ইয়েজহাক ব্রিক।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক Maariv-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ব্রিক জানান, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এখন প্রায় ৪০ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা নিয়ে আবার সংগঠিত হয়েছে—যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আগের শক্তির সমতুল্য। তাদের কার্যক্রম এখনো চলছে ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ও গেরিলা কৌশলের মাধ্যমে, যেমনটি যুদ্ধের শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল।

ব্রিকের মতে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী কখনোই প্রথাগত সেনাবাহিনী ছিল না; বরং এটি একটি ছায়া প্রতিরোধ বাহিনী—যা টিকে থাকে কৌশল, সুরঙ্গ ও জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে। তাই তাদের ‘ধ্বংসের’ দাবি অর্থহীন, কারণ তাদের ধ্বংস করার মতো কোনো কেন্দ্রীভূত কাঠামোই নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিরা এখন আগের চেয়েও বেশি সংগঠিত এবং সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ চালাচ্ছে। সুরঙ্গের জটিল নেটওয়ার্ক, হঠাৎ আক্রমণ এবং উন্নত পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা দখলদার বাহিনীকে বারবার বিভ্রান্ত করছে।

এদিকে গাজার প্রতিটি শহীদের রক্তে নতুন করে জেগে উঠেছে এই প্রতিরোধ। ব্রিকের ভাষায়, “গাজায় শুধু অস্ত্র নয়, প্রতিরোধের অদম্য চেতনাও টিকে আছে।” এই পুনরায় সংগঠিত ৪০ হাজার যোদ্ধা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই সংগ্রাম কেবল অব্যাহত নয়, বরং সময়ের সাথে আরও অনিবার্য হয়ে উঠছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানাল সুপার কম্পিউটার

গাজার জন্য প্রস্তুত ৪০ হাজার প্রতিরোধ যোদ্ধা!

আপডেট সময় ১০:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

এবার গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তথাকথিত “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান” কার্যত পরিণত হয়েছে ইতিহাসের এক ভয়াবহ গণহত্যার অধ্যায়ে। গত ২১ মাসে এই আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৭,০০০ বেসামরিক ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন লক্ষাধিক। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে আসছে, তারা ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস সাধন করেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল ইয়েজহাক ব্রিক।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক Maariv-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ব্রিক জানান, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এখন প্রায় ৪০ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা নিয়ে আবার সংগঠিত হয়েছে—যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আগের শক্তির সমতুল্য। তাদের কার্যক্রম এখনো চলছে ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ও গেরিলা কৌশলের মাধ্যমে, যেমনটি যুদ্ধের শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল।

ব্রিকের মতে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী কখনোই প্রথাগত সেনাবাহিনী ছিল না; বরং এটি একটি ছায়া প্রতিরোধ বাহিনী—যা টিকে থাকে কৌশল, সুরঙ্গ ও জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে। তাই তাদের ‘ধ্বংসের’ দাবি অর্থহীন, কারণ তাদের ধ্বংস করার মতো কোনো কেন্দ্রীভূত কাঠামোই নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিরা এখন আগের চেয়েও বেশি সংগঠিত এবং সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ চালাচ্ছে। সুরঙ্গের জটিল নেটওয়ার্ক, হঠাৎ আক্রমণ এবং উন্নত পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা দখলদার বাহিনীকে বারবার বিভ্রান্ত করছে।

এদিকে গাজার প্রতিটি শহীদের রক্তে নতুন করে জেগে উঠেছে এই প্রতিরোধ। ব্রিকের ভাষায়, “গাজায় শুধু অস্ত্র নয়, প্রতিরোধের অদম্য চেতনাও টিকে আছে।” এই পুনরায় সংগঠিত ৪০ হাজার যোদ্ধা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই সংগ্রাম কেবল অব্যাহত নয়, বরং সময়ের সাথে আরও অনিবার্য হয়ে উঠছে।