বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিশর শিবির। ম্যাচ পরিচালনা করা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন কোচ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা। এমনকি ফরোয়ার্ড মুস্তাফা জিকো দাবি করেছেন, পুরো টুর্নামেন্টই ছিল ‘পাতানো’।
ম্যাচ শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি জিকো। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রেফারি নিরপেক্ষ ছিলেন না। তিনি আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন। আল্লাহ সাক্ষী, এই টুর্নামেন্ট পাতানো।”
ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোল আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেয়।
তবে মিশরের অভিযোগ শুধু শেষ মুহূর্তের গোল নিয়েই নয়। দ্বিতীয়ার্ধে মুস্তাফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। এছাড়া যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতরে একটি ট্যাকলের ঘটনাও ভিএআরে পর্যালোচনা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার দাবি, মাঠের ভেতর ও বাইরের নানা ঘটনায় ম্যাচের ফল প্রভাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, তার দল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ভালো খেললেও ন্যায্য ফল পায়নি।
হাসান আরও জানান, ম্যাচের আগে থেকেই রেফারি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল মিশর। অতিরিক্ত সময়ে ভিএআর রিভিউয়ের দাবি জানাতে গিয়ে তিনি নিজেও হলুদ কার্ড দেখেন।
শুধু রেফারিং নয়, ম্যাচের সময়সূচি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিশর কোচ। আটলান্টায় দুপুরের ম্যাচ আয়োজনকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সময় খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেওয়া সম্ভব নয়।
হাসান জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো আর দেখবেন না। তবে বিতর্কের মাঝেও নিজের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা যা প্রাপ্য ছিলাম, তা পাইনি।”

ডেস্ক রিপোর্ট 




















