প্রবল টর্নেডো, ঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত চীন। দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি প্রদেশে টাইফুন মাইসাকের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। এছাড়া প্রদেশটির অন্তত ৪০টি নদী ও জলপথ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট।
অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া এবং শক্তিশালী টর্নেডো প্রাণ কেড়েছে অন্তত ১১ জনের। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বাড়িঘর, আর সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে ২২টি ভবন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, হুবেইর হুয়াংগাং শহরে আঘাত হানা বিরল শক্তিশালী টর্নেডো একটি লজিস্টিকস কোম্পানি ও গুদাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঝড়ের তীব্রতায় কয়েকটি ট্রাক প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত আকাশে ছিটকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মুহূর্তেই উড়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র, আর প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ছুটে যান আশ্রয়কেন্দ্রে।
চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















