ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যাটো নেতাদের যে উপহার দিয়ে চমকে দিলেন এরদোয়ান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে নিজের মালপত্রের মধ্যে একটি পিস্তল ও তাজা গুলি দেখে বেশ চমকে গেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ত দে ওয়েভার। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সম্মেলন শেষে জোটের সব রাষ্ট্রপ্রধানকে এমনই এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন বিদায়ী উপহার দিয়েছেন স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। উপহার হিসেবে কেবল সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, পিস্তলগুলোর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তাজা গুলিও।

 

মূলত তুরস্কের সমরাস্ত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এরদোয়ান এই অভিনব কৌশল বেছে নেন, যা বর্তমানে দেশটির বড় রফতনি খাত ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম হাতিয়ার।

 

 

লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয়ের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন বাক্সে রাখা হয়েছে গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম মডেলের একটি রিভলবার। এটি নব্বইয়ের দশকে তুর্কি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমকেই তৈরি করেছিল। বাক্সের ওপর তুরস্কের পতাকা, ন্যাটোর লোগো এবং তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘গুমুশায়, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলবার জাতীয় হ্যান্ডগান’।

 

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র জানান, সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব নেতাকেই এই একই মডেলের পিস্তল দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর ওপর খোদাই করে তাদের নিজেদের নাম লেখা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহারের বাক্সে পিস্তলের সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০টি গুলিও দেওয়া হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

এই অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় উপহার নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা এখন ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে তার পিস্তলটি জমা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকির সহকারী জানান, তাদের পিস্তলটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে এবং উপহারের মর্যাদা রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে রাখা হবে; তবে এটি দিয়ে কেউ গুলি ছুড়বে না।

 

নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীদের পিস্তল দুটি আঙ্কারায় তাদের নিজ নিজ দূতাবাসে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ডাচ পিস্তলটি অকেজো করে দেওয়া হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পিস্তলটি ইতোমধ্যে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সরকারি কার্যালয় পালাজ্জো চিজিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রাপ্ত পিস্তল যথাক্রমে সামরিক জাদুঘর ও এথেন্সের যুদ্ধ জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করেছেন।

 

জেনেভাভিত্তিক সংস্থা স্মল আর্মস সার্ভে’র তথ্যমতে, কম দামে পিস্তল ও শটগান সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তুরস্ক। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। আর সেই সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই এই বিরল রিভলবার উপহার দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন এরদোয়ান।

 

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটো নেতাদের যে উপহার দিয়ে চমকে দিলেন এরদোয়ান

আপডেট সময় ১১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে নিজের মালপত্রের মধ্যে একটি পিস্তল ও তাজা গুলি দেখে বেশ চমকে গেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ত দে ওয়েভার। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সম্মেলন শেষে জোটের সব রাষ্ট্রপ্রধানকে এমনই এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন বিদায়ী উপহার দিয়েছেন স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। উপহার হিসেবে কেবল সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, পিস্তলগুলোর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তাজা গুলিও।

 

মূলত তুরস্কের সমরাস্ত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এরদোয়ান এই অভিনব কৌশল বেছে নেন, যা বর্তমানে দেশটির বড় রফতনি খাত ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম হাতিয়ার।

 

 

লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয়ের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন বাক্সে রাখা হয়েছে গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম মডেলের একটি রিভলবার। এটি নব্বইয়ের দশকে তুর্কি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমকেই তৈরি করেছিল। বাক্সের ওপর তুরস্কের পতাকা, ন্যাটোর লোগো এবং তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘গুমুশায়, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলবার জাতীয় হ্যান্ডগান’।

 

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র জানান, সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব নেতাকেই এই একই মডেলের পিস্তল দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর ওপর খোদাই করে তাদের নিজেদের নাম লেখা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহারের বাক্সে পিস্তলের সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০টি গুলিও দেওয়া হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

এই অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় উপহার নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা এখন ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে তার পিস্তলটি জমা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকির সহকারী জানান, তাদের পিস্তলটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে এবং উপহারের মর্যাদা রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে রাখা হবে; তবে এটি দিয়ে কেউ গুলি ছুড়বে না।

 

নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীদের পিস্তল দুটি আঙ্কারায় তাদের নিজ নিজ দূতাবাসে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ডাচ পিস্তলটি অকেজো করে দেওয়া হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পিস্তলটি ইতোমধ্যে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সরকারি কার্যালয় পালাজ্জো চিজিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রাপ্ত পিস্তল যথাক্রমে সামরিক জাদুঘর ও এথেন্সের যুদ্ধ জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করেছেন।

 

জেনেভাভিত্তিক সংস্থা স্মল আর্মস সার্ভে’র তথ্যমতে, কম দামে পিস্তল ও শটগান সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তুরস্ক। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। আর সেই সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই এই বিরল রিভলবার উপহার দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন এরদোয়ান।

 

সূত্র: সিএনএন