ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজভূমে চিরঘুমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কালো পোশাক আর হাতে লাল পতাকা নিয়ে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদের রাস্তায় মাইলের পর মাইলজুড়ে শোকার্ত মানুষের ঢল। কারও কারও হাতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি। কেউ কাঁদছেন, কেউ বিমর্ষ; মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠছে বিষণ্নতা। কেউ করছেন মাতম। লাখো মানুষের মিছিল চিরে ধীরগতিতে চলছিল কফিনবাহী গাড়ি। পুরো মাশহাদ যেন শোকের নগরী!

 

এভাবেই ইরানের মানুষ তাদের প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার জন্মশহর মাশহাদেই তার দাফন সম্পন্ন হয়। ইরানের তেহরান ও কওম ছাড়াও ইরাকের নাজাফ ও কারাবালায় নেওয়া হয়েছিল লাশবাহী কফিন। উভয় দেশেই সড়কে নেমে এসে মানুষ খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান। ধারণা করা হয়, পুরো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন ৮৬ বছরের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

 

আলজাজিরা জানায়, মাশহাদে ইমান রেজার দরগায় তাদের দাফন করা হয়েছে। এর আগে ওই স্থানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে দাফন করা হয়েছিল।

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তার আরও তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার সময় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। তিনি কোথায় আছেনতা নিয়ে নানা জল্পনা আছে। তবে ইরান সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে আড়ালে রাখা হয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামে। লাশবাহী কফিন আসার অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

 

এনডিটিভি জানায়, সাদা পাগড়ি পরিহিত ধর্মীয় নেতাদের পাহারায় একটি ট্রাকে করে খামেনির লাশবাহী গাড়ি ধীরগতিতে মাশহাদের জনাকীর্ণ রাস্তা দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজ ও মিনারগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কালো পোশাক পরিহিত শোকাতুর জনতা ঠিক পেছনেই ভিড় করে এগিয়ে চলেন; তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা, প্রয়াত খামেনির ছবি ও বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড।

 

সর্বোচ্চ নেতার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, প্রতিবেশী ইরাক থেকে খামেনির কফিন বহনকারী বিমানটি যখন মাশহাদে পৌঁছায়, তখন অন্তত একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় কফিনটি নেওয়া হলে বুধবার লাখো মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

মাশহাদে খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও ছিল। রয়েছে তার ১৪ মাস বয়সের নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানির কফিনটিও। এছাড়া আলী খামেনির জামাতা, এক মেয়ে ও ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হবে।

 

এর আগে তেহরান ও কওম শহরে কফিনটি রেখে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতার শেষদিন বৃহস্পতিবার মাশহাদের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি।

 

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজ শহরে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার পাশেই সমাহিত করা হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের।

 

১৯৭৯ সালে ইরানে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়, তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই অভ্যুত্থানে পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে। পরে খামেনি গড়ে তোলেন ইরানের সেই সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজভূমে চিরঘুমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আপডেট সময় ১২:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কালো পোশাক আর হাতে লাল পতাকা নিয়ে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদের রাস্তায় মাইলের পর মাইলজুড়ে শোকার্ত মানুষের ঢল। কারও কারও হাতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি। কেউ কাঁদছেন, কেউ বিমর্ষ; মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠছে বিষণ্নতা। কেউ করছেন মাতম। লাখো মানুষের মিছিল চিরে ধীরগতিতে চলছিল কফিনবাহী গাড়ি। পুরো মাশহাদ যেন শোকের নগরী!

 

এভাবেই ইরানের মানুষ তাদের প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার জন্মশহর মাশহাদেই তার দাফন সম্পন্ন হয়। ইরানের তেহরান ও কওম ছাড়াও ইরাকের নাজাফ ও কারাবালায় নেওয়া হয়েছিল লাশবাহী কফিন। উভয় দেশেই সড়কে নেমে এসে মানুষ খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান। ধারণা করা হয়, পুরো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন ৮৬ বছরের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

 

আলজাজিরা জানায়, মাশহাদে ইমান রেজার দরগায় তাদের দাফন করা হয়েছে। এর আগে ওই স্থানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে দাফন করা হয়েছিল।

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তার আরও তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার সময় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। তিনি কোথায় আছেনতা নিয়ে নানা জল্পনা আছে। তবে ইরান সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে আড়ালে রাখা হয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামে। লাশবাহী কফিন আসার অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

 

এনডিটিভি জানায়, সাদা পাগড়ি পরিহিত ধর্মীয় নেতাদের পাহারায় একটি ট্রাকে করে খামেনির লাশবাহী গাড়ি ধীরগতিতে মাশহাদের জনাকীর্ণ রাস্তা দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজ ও মিনারগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কালো পোশাক পরিহিত শোকাতুর জনতা ঠিক পেছনেই ভিড় করে এগিয়ে চলেন; তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা, প্রয়াত খামেনির ছবি ও বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড।

 

সর্বোচ্চ নেতার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, প্রতিবেশী ইরাক থেকে খামেনির কফিন বহনকারী বিমানটি যখন মাশহাদে পৌঁছায়, তখন অন্তত একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় কফিনটি নেওয়া হলে বুধবার লাখো মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

মাশহাদে খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও ছিল। রয়েছে তার ১৪ মাস বয়সের নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানির কফিনটিও। এছাড়া আলী খামেনির জামাতা, এক মেয়ে ও ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হবে।

 

এর আগে তেহরান ও কওম শহরে কফিনটি রেখে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতার শেষদিন বৃহস্পতিবার মাশহাদের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি।

 

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজ শহরে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার পাশেই সমাহিত করা হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের।

 

১৯৭৯ সালে ইরানে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়, তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই অভ্যুত্থানে পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে। পরে খামেনি গড়ে তোলেন ইরানের সেই সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো।