ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মিসরের, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন কোচ হোসাম প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু বিবেচনায় বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ একযোগে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালাল ইরান ইরানের হামলার জবাবে ২০ গুণ বেশি শক্তি দিয়ে পাল্টা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প মরক্কোর বিপক্ষে লড়াই, রেফারির নয়: ফ্রান্স কোচ বিশ্বকাপে শীর্ষ ১৫ দলের মুখোমুখি হয়নি আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের কারোর বিরুদ্ধেই খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে! মার্কিন রণতরীতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক জাপান: ট্রাম্প মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে: মামদানি সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

চলমান ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক এই সময়েই মাঠের বাইরে এক বড় বিতর্কের ঘূর্ণিপাকে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এই সংস্থাটি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও দেশটির ফেডারেল কৌঁসুলিরা। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ঘিরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কীভাবে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে লেনদেন হয়েছে এবং সেসব লেনদেনে দেশটির প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না। 

কার্লোস তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধ্যায় পার করছে, যার মধ্যে ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিশন অন্যতম। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমলা নাসিওন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেশনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। গত এক বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবলে ঘটে যাওয়া একাধিক আইনি ও আর্থিক বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এই তদন্তের বিষয়টি সামনে এলো। এর আগে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেসুর ফিনানজাসনামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট পৃথক এক মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির অভিযোগে এএফএ সদর দপ্তর ও দেশটির বেশ কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছিল আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন তদন্তকারীরা প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া বিভিন্ন লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ ও মিডিয়া স্বত্ব থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাক্ষী তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত এএফএর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের কোনো প্রভাব চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণের ওপর পড়েনি। মাঠের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি এখনো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই এগিয়ে চলেছে।

তবে ঘটনাটি সামনে আসার সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোয়ার্টারফাইনালের মহারণের জন্য আর্জেন্টিনা যখন মাঠে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এসব খবর ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। বছরের পর বছর ধরে ট্রফি জয় ও বৈশ্বিক সাফল্য উদযাপন করে আসা এই ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্তের বিষয়টি সামনে আসায় সংস্থাটির সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলো আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মিসরের, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন কোচ হোসাম

এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা

আপডেট সময় ০৯:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চলমান ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক এই সময়েই মাঠের বাইরে এক বড় বিতর্কের ঘূর্ণিপাকে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এই সংস্থাটি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও দেশটির ফেডারেল কৌঁসুলিরা। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ঘিরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কীভাবে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে লেনদেন হয়েছে এবং সেসব লেনদেনে দেশটির প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না। 

কার্লোস তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধ্যায় পার করছে, যার মধ্যে ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিশন অন্যতম। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমলা নাসিওন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেশনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। গত এক বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবলে ঘটে যাওয়া একাধিক আইনি ও আর্থিক বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এই তদন্তের বিষয়টি সামনে এলো। এর আগে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেসুর ফিনানজাসনামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট পৃথক এক মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির অভিযোগে এএফএ সদর দপ্তর ও দেশটির বেশ কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছিল আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন তদন্তকারীরা প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া বিভিন্ন লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ ও মিডিয়া স্বত্ব থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাক্ষী তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত এএফএর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের কোনো প্রভাব চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণের ওপর পড়েনি। মাঠের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি এখনো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই এগিয়ে চলেছে।

তবে ঘটনাটি সামনে আসার সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোয়ার্টারফাইনালের মহারণের জন্য আর্জেন্টিনা যখন মাঠে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এসব খবর ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। বছরের পর বছর ধরে ট্রফি জয় ও বৈশ্বিক সাফল্য উদযাপন করে আসা এই ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্তের বিষয়টি সামনে আসায় সংস্থাটির সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলো আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।