ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত আমল করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পুরস্কার পেলেন মিসর কোচ চুক্তি করতে যোগাযোগ করেছে ইরান, ট্রাম্পের দাবি সমালোচনার মুখে নিজেকে ‘লুকিয়ে’ ফেললেন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি চাইলেই কেন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে পারছেন না ট্রাম্প? ইরানের হত্যা তালিকায় আমিই এক নম্বরে: ট্রাম্প বন্ধ কলকারখানা চালু করে ফের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী কোয়ার্টার ফাইনালে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ১৮ ফুটবলার ‘হামলা করলে পালটা আঘাত পাবে’, যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি

নারী শিক্ষার্থীদের পর্দা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জবি ছাত্রদল নেতার, সমালোচনার ঝড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪০৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে। শনিবার (৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার এক মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাবি শাখার সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি যুক্ত করে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন। সেই পোস্টে এক মন্তব্যের উত্তরে তিনি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন। এ ছাড়াও আরেকটি মন্তব্যের উত্তরে তিনি বলেন, ‘লুঙ্গীর তলেও (অশ্লীল শব্দ)…। আমাদের পর্দায় সমস্যা না সার্কাসে সমস্যা। বুজিপার পারিচো গেদা।’

তার এসব মন্তব্যকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে শামসুল আরেফিনের মন্তব্যের নিন্দা জানান তারা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিব নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এই হলো রাজনীতি, ছি‌: মুখে থু!’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা লিখেন, তথাকথিত প্রগতিশীল নারীবাদীরা এখন কই গেছে? এসব নিয়ে তো তাদের কোনো আওয়াজ দেখছি না। নাকি দাড়িওয়ালা পুরুষ আর হিজাব পরিহিত নারীকে নিয়ে যাচ্ছে তাই বলা বৈধ? এই কমেন্টের মাধ্যমে পুরো নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে। ইসলামপন্থিদের যতই থামিয়ে দিতে চান, যতই গালি দেন তারা কিন্তু থেমে যাবে না। কোরআনের একটা আয়াত মনে করিয়ে দেই, তারা ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশল অবলম্বনকারী।

জবি শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব নিয়ে এমন কটূক্তিমূলক কথা বলা জাহেলিয়াতের চরমতম বহিঃপ্রকাশ। পর্দা করা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো মুসলিম পরিবারের মানুষ এমন মন্তব্য করতে পারে না। নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষের মতো আচরণ একজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতার মুখে বেমানান। বামদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যারা নিজেকে নব্য ইসলামবিদ্বেষী প্রমাণ করতে চায় তাদের জানা উচিত এদেশে ইসলামের শিকড় অনেক গভীরে।’

এদিকে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন এক কমেন্টে সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেন, পর্দার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আমার বক্তব্য ভিসি মহোদয়ের হিপোক্রেসির ওপর।একদিকে রাজনীতি প্রমোট করেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ। নারী ও তার ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমার আজন্ম শ্রদ্ধা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ

নারী শিক্ষার্থীদের পর্দা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জবি ছাত্রদল নেতার, সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় ১২:৪৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

এবার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে। শনিবার (৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার এক মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাবি শাখার সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি যুক্ত করে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন। সেই পোস্টে এক মন্তব্যের উত্তরে তিনি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন। এ ছাড়াও আরেকটি মন্তব্যের উত্তরে তিনি বলেন, ‘লুঙ্গীর তলেও (অশ্লীল শব্দ)…। আমাদের পর্দায় সমস্যা না সার্কাসে সমস্যা। বুজিপার পারিচো গেদা।’

তার এসব মন্তব্যকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে শামসুল আরেফিনের মন্তব্যের নিন্দা জানান তারা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিব নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এই হলো রাজনীতি, ছি‌: মুখে থু!’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা লিখেন, তথাকথিত প্রগতিশীল নারীবাদীরা এখন কই গেছে? এসব নিয়ে তো তাদের কোনো আওয়াজ দেখছি না। নাকি দাড়িওয়ালা পুরুষ আর হিজাব পরিহিত নারীকে নিয়ে যাচ্ছে তাই বলা বৈধ? এই কমেন্টের মাধ্যমে পুরো নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে। ইসলামপন্থিদের যতই থামিয়ে দিতে চান, যতই গালি দেন তারা কিন্তু থেমে যাবে না। কোরআনের একটা আয়াত মনে করিয়ে দেই, তারা ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশল অবলম্বনকারী।

জবি শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব নিয়ে এমন কটূক্তিমূলক কথা বলা জাহেলিয়াতের চরমতম বহিঃপ্রকাশ। পর্দা করা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো মুসলিম পরিবারের মানুষ এমন মন্তব্য করতে পারে না। নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষের মতো আচরণ একজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতার মুখে বেমানান। বামদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যারা নিজেকে নব্য ইসলামবিদ্বেষী প্রমাণ করতে চায় তাদের জানা উচিত এদেশে ইসলামের শিকড় অনেক গভীরে।’

এদিকে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন এক কমেন্টে সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেন, পর্দার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আমার বক্তব্য ভিসি মহোদয়ের হিপোক্রেসির ওপর।একদিকে রাজনীতি প্রমোট করেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ। নারী ও তার ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমার আজন্ম শ্রদ্ধা।