এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে নামার আগেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে আট দল। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে ১৮ ফুটবলারকে। এই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, মরক্কো, স্পেনের মতো শিরোপার অন্যতম দাবিদার দলগুলোর খেলোয়াড়রাও। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন টিকে আছে মাত্র আটটি দল। একদিন বিরতির পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। তবে শেষ আটের ম্যাচে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, হলুদ কার্ডের হিসাব নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে দলগুলোকে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। এই দুই দলের চারজন করে ফুটবলার এরই মধ্যে নকআউট পর্বে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলোয়াড়দের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিনজন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলার হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়ি। মরক্কোর ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুসও রয়েছেন একই তালিকায়।
এছাড়া ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা; সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইম; আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল; স্পেনের ফেররান তোরেস; বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে এবং নরওয়ের অ্যান্তোনিও নুসা কোয়ার্টার ফাইনালে হলুদ কার্ড এড়িয়ে খেলতে হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন একটি নকআউট পর্ব যোগ হওয়ায় খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আগের নিয়মে গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হতেন।
তবে এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল হয়ে গেছে। এরপর শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে পাওয়া হলুদ কার্ডের হিসাব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবার নতুন করে হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হবে। ফিফার এই পরিবর্তনের মূল কারণ, সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি ঠেকানো। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে একটি দলকে আগের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই একজন খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে যেসব ফুটবলার আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন, তারা আবার কার্ড দেখলে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হওয়ায় কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ডের কারণে ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়বেন না। শুধু সেমিফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ফাইনালে খেলার সুযোগ হারাতে পারেন কোনো ফুটবলার। এদিকে লাল কার্ডের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাবেন। আর গুরুতর বা সহিংস আচরণের ঘটনায় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আরও বড় শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সূচি অনুযায়ী, ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই হবে সেমিফাইনাল। ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















