ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়লেন মেসি আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বড় সতর্কবার্তা, বন্ধ থাকতে পারে খেলা নেইমারের মন খারাপ, নরওয়ে ম্যাচের আগে আনচেলত্তি দিলেন বড় বার্তা আর্জেন্টিনাকে হারাতে যে পরিকল্পনায় খেলবে কেপ ভার্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় আ.লীগ গণমানুষের দল ছিল, পরে স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে: প্রতিমন্ত্রী নূর খামেনির কফিনের ওপর আরবি লেখার অর্থ কী? বিয়ের ৮ বছর পর মা হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইরানে গিয়ে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াতের নায়েবে আমির-পাটওয়ারী-হানজালা দেশে এখন মুক্ত পরিবেশে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে: রিজভী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ আমন্ত্রণ জানান

রেলস্টেশনে কুলির টাকা মেরে পালালেন যাত্রী, জানা গেল আসল ঘটনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৫৮ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক কুলিকে নিয়ে হৃদয়স্পর্শী এক ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেল ধরে দৌঁড়াচ্ছেন তিনি। এক পর্যায়ে সে বলেন, আল্লাহ আপনার কড়া বিচার করবেন,— এরপরই তিনি ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেল ছেড়ে দেন। এ ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। তবে জানা গেছে, ভাইরাল এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক ভিন্ন গল্প।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক যাত্রীকে ট্রেনে উঠাতে সাহায্য করেছিলেন কুলি বাপ্পি। তিনি যাত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— ট্রেনে উঠিয়ে দেবেন, আর যাত্রী তাকে কিছু পারিশ্রমিক দেবেন। যাত্রীও খুশি হয়ে শুরুতে ১০ টাকা, পরে ৫০ টাকা দিতে চান। কিন্তু বাপ্পি দাবি করেন ২০০ টাকা, কারণ তিনি দূর থেকে দৌড়ে এসে ট্রেন থামিয়ে সাহায্য করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত যাত্রী ২০০ টাকা দিতে রাজি হলেও ভাংতি না থাকায় টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ট্রেন ছাড়ার পরও বাপ্পি কিছুদূর দৌড়ে ট্রেনের দরজা পর্যন্ত যান এবং টাকা না পেয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ওই যে ৫০ টাকা দিছে, ওইটাই নিছি। বলছি— আল্লাহ আপনারে বিচার করবো। আমি যদি লেজ হইয়া থাকি, তাহলে আমি পামু স্যার।

এই ঘটনায় অনেকে দিনমজুর বাপ্পির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। যদিও কিছু যাত্রী বলছেন, রেলস্টেশনে কুলিদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারিত না থাকায় প্রায়ই এমন বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশন এলাকায় কুলিদের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা অনেক সময় যাত্রীদের মালপত্র জোর করে নিয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে হয়রানি করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ন্যায়বিচারেরও প্রশ্ন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়লেন মেসি

রেলস্টেশনে কুলির টাকা মেরে পালালেন যাত্রী, জানা গেল আসল ঘটনা

আপডেট সময় ০২:১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক কুলিকে নিয়ে হৃদয়স্পর্শী এক ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেল ধরে দৌঁড়াচ্ছেন তিনি। এক পর্যায়ে সে বলেন, আল্লাহ আপনার কড়া বিচার করবেন,— এরপরই তিনি ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেল ছেড়ে দেন। এ ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। তবে জানা গেছে, ভাইরাল এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক ভিন্ন গল্প।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক যাত্রীকে ট্রেনে উঠাতে সাহায্য করেছিলেন কুলি বাপ্পি। তিনি যাত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— ট্রেনে উঠিয়ে দেবেন, আর যাত্রী তাকে কিছু পারিশ্রমিক দেবেন। যাত্রীও খুশি হয়ে শুরুতে ১০ টাকা, পরে ৫০ টাকা দিতে চান। কিন্তু বাপ্পি দাবি করেন ২০০ টাকা, কারণ তিনি দূর থেকে দৌড়ে এসে ট্রেন থামিয়ে সাহায্য করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত যাত্রী ২০০ টাকা দিতে রাজি হলেও ভাংতি না থাকায় টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ট্রেন ছাড়ার পরও বাপ্পি কিছুদূর দৌড়ে ট্রেনের দরজা পর্যন্ত যান এবং টাকা না পেয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ওই যে ৫০ টাকা দিছে, ওইটাই নিছি। বলছি— আল্লাহ আপনারে বিচার করবো। আমি যদি লেজ হইয়া থাকি, তাহলে আমি পামু স্যার।

এই ঘটনায় অনেকে দিনমজুর বাপ্পির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। যদিও কিছু যাত্রী বলছেন, রেলস্টেশনে কুলিদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারিত না থাকায় প্রায়ই এমন বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশন এলাকায় কুলিদের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা অনেক সময় যাত্রীদের মালপত্র জোর করে নিয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে হয়রানি করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ন্যায়বিচারেরও প্রশ্ন।