ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তার ও জাপা নিষিদ্ধের জোর দাবি আর কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই: ফয়জুল করীম ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসা সেবা বন্ধ আজ বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা পাকিস্তানে মিলল তেল-গ্যাসের বিপুল মজুত বিড়ি খাওয়ার বক্তব্য দেওয়ায় জামায়াতের ২ কোটির মার্কেটিং হয়েছে: ড. ফয়জুল হক বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ নগদ কোটি টাকা পাচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির পরিবার বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে: সারজিস জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বেদনাদায়কভাবে হামলা চালিয়েছে বিএনপির লোকেরা: শফিকুর রহমান

বিক্ষোভকারীদেরকে ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা করল ইরান, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

এবার চরম অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে ইরানে। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। বিক্ষোভে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। বিক্ষোভকারীদেরকে উসকানোর পাশাপাশি জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকার পতনের এ আন্দোলন এতটাই ফুঁসে উঠেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু চাইছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

এদিকে সব মিলিয়ে ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময় পার করছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েমের পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে খামেনির শাসনব্যবস্থা। বিক্ষোভ দমাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। এ অবস্থায় এবার ইরানের বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) বলে ঘোষণা করছে ইসরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে— তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলনের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তার ও জাপা নিষিদ্ধের জোর দাবি

বিক্ষোভকারীদেরকে ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা করল ইরান, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার চরম অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে ইরানে। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। বিক্ষোভে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। বিক্ষোভকারীদেরকে উসকানোর পাশাপাশি জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকার পতনের এ আন্দোলন এতটাই ফুঁসে উঠেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু চাইছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

এদিকে সব মিলিয়ে ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময় পার করছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েমের পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে খামেনির শাসনব্যবস্থা। বিক্ষোভ দমাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। এ অবস্থায় এবার ইরানের বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) বলে ঘোষণা করছে ইসরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে— তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলনের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।