ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচনকেও অনিশ্চিত করে তুলবে: ইসলামী আন্দোলন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, হাসিনার পতনের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের নানা সমালোচনা থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় দেশ সঠিক পথেই চালিত হচ্ছে। তবে সন্ত্রাস দমনে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যর্থতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

রোববার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সব অবদান ছাপিয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এখনও যদি সরকার সন্ত্রাস দমনে কঠোর না হয় তাহলে আসন্ন নির্বাচনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

মহাসচিব বলেন, জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটা ভয়ংকর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে সেটা সত্য। কিন্তু একবছর যথেষ্ট সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ সামগ্রিক সংস্কারের কথা শুরুতে আলোচিত হলেও সেটা করা হয়নি। পুলিশের বেশিরভাগ সদস্য ফ্যাসিবাদের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাদের থেকে অব্যাহত অসহযোগিতা সত্বেও পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হয়নি। দাগি আসামিদের কেবল চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাও সংখ্যায় বেশি না। ফলে জনপ্রশাসন ও আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীতে ফ্যাসিবাদের দোসররা বহাল তবিয়তে আছে। সে কারণেই আইন-শৃঙ্খলার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ভয়ংকর নির্মমতায় ব্যবসায়ী হত্যা ও সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎসবমুখর নির্বাচন করার যে আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্ত করেছেন সেই আশার গুড়েবালি পড়বে বলেই ধরে নেওয়া যায়।

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, ঢাকার নিউমার্কেটে দেশি অস্ত্রের বিশাল মজুত পাওয়া গেছে। এমন মজুত আরও কত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ভারত যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা এই সরকার বুঝতে ভুল করেছে। তারা আওয়ামী লীগ ও ভারতকে মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। আমাদের আশার স্থল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাঠে থাকার পরেও বর্তমান পরিস্থিতি আমাদেরকে ভাবিত করছে। তাই সরকারকে বলবো, দ্রুত ও জরুরি পদক্ষেপ নেন, যা যা করণীয় তা করেন। সরকারের প্রধান কাজ হিসেবে সন্ত্রাস দমনকে বিবেচনা করে পুরো শক্তি নিয়োগ করেন। অন্যথায় পরাজিত শক্তি নৃশংস মরণকামড় দিয়ে বসতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচনকেও অনিশ্চিত করে তুলবে: ইসলামী আন্দোলন

আপডেট সময় ১২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, হাসিনার পতনের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের নানা সমালোচনা থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় দেশ সঠিক পথেই চালিত হচ্ছে। তবে সন্ত্রাস দমনে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যর্থতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

রোববার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সব অবদান ছাপিয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এখনও যদি সরকার সন্ত্রাস দমনে কঠোর না হয় তাহলে আসন্ন নির্বাচনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

মহাসচিব বলেন, জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটা ভয়ংকর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে সেটা সত্য। কিন্তু একবছর যথেষ্ট সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ সামগ্রিক সংস্কারের কথা শুরুতে আলোচিত হলেও সেটা করা হয়নি। পুলিশের বেশিরভাগ সদস্য ফ্যাসিবাদের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাদের থেকে অব্যাহত অসহযোগিতা সত্বেও পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হয়নি। দাগি আসামিদের কেবল চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাও সংখ্যায় বেশি না। ফলে জনপ্রশাসন ও আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীতে ফ্যাসিবাদের দোসররা বহাল তবিয়তে আছে। সে কারণেই আইন-শৃঙ্খলার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ভয়ংকর নির্মমতায় ব্যবসায়ী হত্যা ও সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎসবমুখর নির্বাচন করার যে আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্ত করেছেন সেই আশার গুড়েবালি পড়বে বলেই ধরে নেওয়া যায়।

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, ঢাকার নিউমার্কেটে দেশি অস্ত্রের বিশাল মজুত পাওয়া গেছে। এমন মজুত আরও কত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ভারত যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা এই সরকার বুঝতে ভুল করেছে। তারা আওয়ামী লীগ ও ভারতকে মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। আমাদের আশার স্থল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাঠে থাকার পরেও বর্তমান পরিস্থিতি আমাদেরকে ভাবিত করছে। তাই সরকারকে বলবো, দ্রুত ও জরুরি পদক্ষেপ নেন, যা যা করণীয় তা করেন। সরকারের প্রধান কাজ হিসেবে সন্ত্রাস দমনকে বিবেচনা করে পুরো শক্তি নিয়োগ করেন। অন্যথায় পরাজিত শক্তি নৃশংস মরণকামড় দিয়ে বসতে পারে।