ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মন্ত্রিসভায় শপথের ডাক পেলেন এহসানুল হক মিলন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা বিএনপির তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপির সংসদীয় দল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জুবাইদার সাথে শাড়ি পরে জাইমা রহমান বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোনো শপথই নেবেন না ১১ দলীয় জোট অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন আমীর খসরু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা আব্বাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে না বিএনপির এমপিরা: সালাহউদ্দিন সৌদি আরবের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজার তারিখ প্রকাশ

পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ও সহিংস করা হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার একটি ‘অজুহাত’ তৈরি করতে পারেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বর্তমান সংকট নিরসনে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’ তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে।

বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে খুব শীঘ্রই ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে ইতিহাসের কুখ্যাত ও অহংকারী স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

খামেনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’ খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরাঘচির আজকের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন বহির্বিশ্বের কাছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ দুটোই খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান সরকার। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ত্রিসভায় শপথের ডাক পেলেন এহসানুল হক মিলন

পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: ইরান

আপডেট সময় ০৩:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ও সহিংস করা হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার একটি ‘অজুহাত’ তৈরি করতে পারেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বর্তমান সংকট নিরসনে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’ তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে।

বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে খুব শীঘ্রই ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে ইতিহাসের কুখ্যাত ও অহংকারী স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

খামেনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’ খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরাঘচির আজকের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন বহির্বিশ্বের কাছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ দুটোই খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান সরকার। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।