ঢাকা , শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিফা শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প যে আমলে দারিদ্র্য দূর হয় রাজনীতিতে ইসলাম মানে শুধু নাম নয়, কাজের মধ্যেও থাকতে হবে” বিএনপির এ্যানি নির্বাচনে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বিএনপি: বড় বিপর্যয় না হলে অংশগ্রহণের ঘোষণা রিজভীর বাংলাদেশে পাথর মেরে মানুষ হত্যার রাজনীতি আর চলবে না: জাহিদুল ইসলাম ‘এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ ও ছাত্রশক্তির শ্যামলী সুলতানা জেদনীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন’ বিএনপির ২৭২ মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ,১২ দলীয় জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার “কুরআনের বাংলাদেশ গড়তেই আমাদের লড়াই,চট্টগ্রামে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান” নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্ধশত নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান রিকশাচালকদের মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী কর্মশালা

আজ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

 

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে আজ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ঠিক করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন এবং উল্লেখ করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশ্বের অনেক হেভিওয়েট নেতাও বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তির জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন, যদিও তার আইনজীবী খালাস দাবি করেছেন।

শেখ হাসিনার মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট এবং শেষ হয় ৮ অক্টোবর। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে— উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।

৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার এই মামলার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন, প্রমাণপত্র ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন স্থানে আগুন ও ককটেল হামলার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জুলাই গণহত্যার প্রথম কোনো রায় শোনার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প

আজ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ

আপডেট সময় ০৯:১৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

 

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে আজ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ঠিক করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন এবং উল্লেখ করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশ্বের অনেক হেভিওয়েট নেতাও বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তির জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন, যদিও তার আইনজীবী খালাস দাবি করেছেন।

শেখ হাসিনার মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট এবং শেষ হয় ৮ অক্টোবর। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে— উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।

৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার এই মামলার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন, প্রমাণপত্র ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন স্থানে আগুন ও ককটেল হামলার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জুলাই গণহত্যার প্রথম কোনো রায় শোনার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।