ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলছে হরমুজ প্রণালি, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলাফল হিসেবে আগামী ১৯ জুন শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি ফের খুলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রণালি ব্যবহারের জন্য কোনো দেশকে আর টোল দিতে হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাইন অপসারণের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অপসারণ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে হরমুজ। আর একটি কথা, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কখনও কাউকে আর টোল দিতে হবে না।রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎকারেও একই কথা বলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালির ওপর অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধ নিশ্চিতভাবে কার্যকর করতে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইন পাতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টে এই মর্মে আইন পাস হয় যে এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না; অন্যান্য যেসব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, সেসব জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল দিতে হবে।

ইরানের এই পদক্ষেপের কারণে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ তেলের সরবরাহ কমে যায় আন্তর্জাতিক বাজারে, ফলে দেশে দেশে দেখা দেয় মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরানকে অবরোধ তুলতে আহ্বান জানালেও তেহরান তার অবস্থানে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ইরানে টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র; সেই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে জারি করে পাল্টা অবরোধ। মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ ছেড়ে যাওয়া কিংবা নতুন জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের পক্ষেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় ইরান; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৬০ দিন সময় পাবেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা এবং ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেবে, পেতে রাখা জলমাইনও অপসারণ করবে। গতকাল রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলছে হরমুজ প্রণালি, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলাফল হিসেবে আগামী ১৯ জুন শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি ফের খুলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রণালি ব্যবহারের জন্য কোনো দেশকে আর টোল দিতে হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাইন অপসারণের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অপসারণ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে হরমুজ। আর একটি কথা, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কখনও কাউকে আর টোল দিতে হবে না।রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎকারেও একই কথা বলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালির ওপর অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধ নিশ্চিতভাবে কার্যকর করতে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইন পাতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টে এই মর্মে আইন পাস হয় যে এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না; অন্যান্য যেসব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, সেসব জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল দিতে হবে।

ইরানের এই পদক্ষেপের কারণে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ তেলের সরবরাহ কমে যায় আন্তর্জাতিক বাজারে, ফলে দেশে দেশে দেখা দেয় মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরানকে অবরোধ তুলতে আহ্বান জানালেও তেহরান তার অবস্থানে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ইরানে টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র; সেই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে জারি করে পাল্টা অবরোধ। মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ ছেড়ে যাওয়া কিংবা নতুন জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের পক্ষেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় ইরান; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৬০ দিন সময় পাবেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা এবং ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেবে, পেতে রাখা জলমাইনও অপসারণ করবে। গতকাল রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি