ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন মেসি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ওঠার পর কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয় দারুণভাবে উপভোগ করছে। আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। এটাও ওর জন্য একটি উপহার।

৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে তারহ্যান্ড অব গডগোল এবং পরের অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিই নতুন করে ফিরে আসে। গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। তার নেতৃত্বেই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন মেসি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের কারণে এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের জন্ম দেয়। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দেরমালভিনাস আর্জেন্টিনারলেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতেও দেখা যায়।

এদিকে এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন মেসি। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও থাকবে তার সামনে। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন মেসি

আপডেট সময় ১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

এবার আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ওঠার পর কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয় দারুণভাবে উপভোগ করছে। আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। এটাও ওর জন্য একটি উপহার।

৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে তারহ্যান্ড অব গডগোল এবং পরের অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিই নতুন করে ফিরে আসে। গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। তার নেতৃত্বেই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন মেসি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের কারণে এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের জন্ম দেয়। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দেরমালভিনাস আর্জেন্টিনারলেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতেও দেখা যায়।

এদিকে এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন মেসি। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও থাকবে তার সামনে। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।