জাতীয় পর্যায়ের দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে দীর্ঘদিনের লিঙ্গ পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটানোর দাবি করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।
শনিবার নতুন অ্যাডহক কমিটির সভায় জান্নাত ও কবিতার জাতীয় প্রতিযোগিতায় পাওয়া সব পদক বাতিল এবং তাঁদের আজীবন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং কবিতা নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। তাঁদের নিয়ে বিতর্কের পর আগের কমিটির অনুরোধে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে।
দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১১ মে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হয়। পাঁচ দিন পর ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রতিবেদনে দুই অ্যাথলেটের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নারী বিভাগে নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে। জান্নাতের মাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬৬ এবং কবিতার ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল/লিটার। যেখানে নির্ধারিত সীমা ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল/লিটার।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশ নিতে নির্ধারিত সময় ধরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সীমার মধ্যে রাখা বাধ্যতামূলক।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানিয়েছেন, জান্নাতের জাতীয় পর্যায়ে পাওয়া নয়টি এবং কবিতার প্রায় চারটি পদক বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুজনকেই আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে তাঁদের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ব্যবহৃত ভাষা এবং সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি বা ক্রীড়া-নীতিগত প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বা কোনো একক মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে কারও লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না—এটি যৌন বিকাশের বৈশিষ্ট্য, লিঙ্গ পরিচয় ও ক্রীড়া-যোগ্যতার পৃথক বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















