ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে যুবককে গুলি জুলাই গ্রাফিতি ইস্যুতে মধ্যরাতে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা আরব আমিরাতের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় আইএইএ’র উদ্বেগ অবশেষে নেইমার প্রসঙ্গে নীরবতা ভাঙলেন আনচেলত্তি রাজবাড়ীতে ৫৬ টাকার আবেদনে পুলিশের চাকুরি পেলেন ২০ জন আইনজীবীদের দুপক্ষের মারামারিতে আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ১৬ বছর পর জন্ম নেওয়া একমাত্র ছেলে, হাম কেড়ে নিল সাত মাসের সাজিদকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিজিবি বাধা দিলে কী হবে, জানালেন বিজেপির মন্ত্রী ‘বিএনপি ইজ রিজেক্ট’—কুমিল্লার সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কারিনার জানাজা অনুষ্ঠিত

দাবি আদায় না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

এবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এতে দেশের প্রধান দলগুলো সাড়া দিলেও সই করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পর এতে সই করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য। যেসব দল গতকাল স্বাক্ষর করেনি, তারা চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে।

এদিকে আগে থেকেই জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যেমন অসন্তোষ ছিল, জুলাই সনদের ক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখা গেল। সনদের বিষয়ে অমীমাংসিত দিকগুলোর সমাধান না হলে ‘জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই সনদের বেশ অনেকগুলো দিক নিয়ে স্বাক্ষরের আগেই সরকারের দিক থেকে নিশ্চিত হতে চাইলেও সনদ ‘বাস্তবায়নের পথটাই অনুল্লেখ থেকে যায়, সেখানে ধোঁয়াশা থাকে, তাহলে আমাদের সমস্ত অর্জন বিফলে যাবে, এ কারণেই আমরা সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান থেকে বিরত থেকেছি।’

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের যে সময় বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের পথ খোলাসা করা, বিরোধ থাকা বিষয়গুলোর সমাধান, আদেশের বিষয়ে পরিষ্কার খসড়া, এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ২০২৬ এর কথা উল্লেখ করবে-এ বিষয়গুলোয় সমাধান চায় এনসিপি। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান না হলে এনসিপি কী করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি, সনদে যতটুকু অর্জিত হয়েছে সেটাকে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন, এটার যে ড্রাফট আদেশের প্রাপ্তি, গণভোটের বিষয়ে ফয়সালা, নোট অফ ডিসেন্ট (আপত্তি) এর জায়গাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। আমরা কমিশনের সাথে আলাপ জারি রাখবো। প্রয়োজনে আমাদের যে রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলো জনগণকে সাথে নিয়ে পালন করবো।’

কমিশনের সাথে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান চাইছে এনসিপি। তবে তার মধ্য দিয়েও সম্ভব না হলে বা ‘গাফেলতি দেখা গেলে অবশ্যই আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো’ বলছেন এনসিপির সদস্য সচিব। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার জন্য তিন দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দাবিগুলো হচ্ছে—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া ‘জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়’ অনুসারে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন এবং জুলাই সনদের বৈধতার উৎস হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে গণভোট হবে। এতে নোট অব ডিসেন্টের আলাদা কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের প্রশ্ন কী হবে তা আগেই চূড়ান্ত করতে হবে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখাতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেয়, তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না; গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের ওপর প্রদত্ত সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সংবিধান সংস্কার করবে এবং সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে জুলাই সনদ সই করা হলে তা জনগণের সঙ্গে ‘ছলচাতুরী’ করা হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন এনসিপি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে যুবককে গুলি

দাবি আদায় না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

আপডেট সময় ১২:২৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

এবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এতে দেশের প্রধান দলগুলো সাড়া দিলেও সই করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পর এতে সই করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য। যেসব দল গতকাল স্বাক্ষর করেনি, তারা চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে।

এদিকে আগে থেকেই জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যেমন অসন্তোষ ছিল, জুলাই সনদের ক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখা গেল। সনদের বিষয়ে অমীমাংসিত দিকগুলোর সমাধান না হলে ‘জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই সনদের বেশ অনেকগুলো দিক নিয়ে স্বাক্ষরের আগেই সরকারের দিক থেকে নিশ্চিত হতে চাইলেও সনদ ‘বাস্তবায়নের পথটাই অনুল্লেখ থেকে যায়, সেখানে ধোঁয়াশা থাকে, তাহলে আমাদের সমস্ত অর্জন বিফলে যাবে, এ কারণেই আমরা সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান থেকে বিরত থেকেছি।’

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের যে সময় বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের পথ খোলাসা করা, বিরোধ থাকা বিষয়গুলোর সমাধান, আদেশের বিষয়ে পরিষ্কার খসড়া, এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ২০২৬ এর কথা উল্লেখ করবে-এ বিষয়গুলোয় সমাধান চায় এনসিপি। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান না হলে এনসিপি কী করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি, সনদে যতটুকু অর্জিত হয়েছে সেটাকে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন, এটার যে ড্রাফট আদেশের প্রাপ্তি, গণভোটের বিষয়ে ফয়সালা, নোট অফ ডিসেন্ট (আপত্তি) এর জায়গাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। আমরা কমিশনের সাথে আলাপ জারি রাখবো। প্রয়োজনে আমাদের যে রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলো জনগণকে সাথে নিয়ে পালন করবো।’

কমিশনের সাথে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান চাইছে এনসিপি। তবে তার মধ্য দিয়েও সম্ভব না হলে বা ‘গাফেলতি দেখা গেলে অবশ্যই আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো’ বলছেন এনসিপির সদস্য সচিব। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার জন্য তিন দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দাবিগুলো হচ্ছে—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া ‘জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়’ অনুসারে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন এবং জুলাই সনদের বৈধতার উৎস হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে গণভোট হবে। এতে নোট অব ডিসেন্টের আলাদা কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের প্রশ্ন কী হবে তা আগেই চূড়ান্ত করতে হবে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখাতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেয়, তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না; গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের ওপর প্রদত্ত সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সংবিধান সংস্কার করবে এবং সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে জুলাই সনদ সই করা হলে তা জনগণের সঙ্গে ‘ছলচাতুরী’ করা হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন এনসিপি।