ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাকে মারধরের ঘটনায় ছেলের ৬ মাসের জেল, ১০০ টাকা জরিমানা বাবাকে হাসপাতালে এনে জমির দলিলে সই নেওয়ার চেষ্টা মেয়ের, ভিডিও ভাইরাল আপনি প্রেসিডেন্ট, উন্মাদ রাজা নন: ট্রাম্পকে মার্কিন সিনেটর মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ উড়িয়ে দিতে ইরানকে ‘সুপারসনিক মিসাইল’ তৈরিতে সহায়তা করেছে রাশিয়া ‘ইরানের নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ভিত গুঁড়িয়ে দেবে, নরক থেকে পালাতে পারবে না’ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নই ‘একমাত্র সমাধান’: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ মাহমুদ কোন দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিজ্ঞেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই?: রাশেদ খাঁন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা: আসিফ মাহমুদ মোদি-পেজেশকিয়ান সাক্ষাতের পর ভারতের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বন্যা নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

‘এরা তো শিবির স্যার, নতুন ফোর্স লাগবে’, ডিসি মাসুদের ফোনালাপ ভাইরাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:১৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭২০ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আবারও সমালোচনায়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্র–জনতার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের আগে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এরা তো শিবির স্যার, আমাদের এখানে নতুন কিছু ফোর্স লাগবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

গতকাল ১৭ নভেম্বর, শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সময় ধানমন্ডি ৩২–এ উত্তেজনা দেখা দেয়। ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে এক্সকাভেটর নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর সেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয় এবং সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময়ই ডিসি মাসুদের ফোনালাপের ভিডিওটি ধারণ হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

’বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করে, আন্দোলন দমনে এখনো ‘শিবির ট্যাগ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ডিসি মাসুদ আন্দোলনকারীদের শিবির আখ্যা দিয়ে কঠোর পদক্ষেপের অনুমোদন নিয়েছেন। ভিডিও প্রকাশের পর তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ডিসি মাসুদকে ঘিরে এর আগেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এক ছাত্রের মুখ চেপে ধরা তার সেই ছবিটি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন—সে ভিডিওটিও তখন ভাইরাল হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। গত মে মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে দলটির নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে, তিনি খেলার মাঠ থেকে জার্সি পরা অবস্থায় ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল সামলান—এ ঘটনাও আলোচনায় আসে।

তবে বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। গত ১৫ এপ্রিল সায়েন্সল্যাবে সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সংঘর্ষের কারণ কেউ বলতে পারবে না, আল্লাহ ছাড়া।” ওই মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়। ডিসি মাসুদ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্প, পরে পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট ডিএমপিতে বদলি হয়ে রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগ দেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাকে মারধরের ঘটনায় ছেলের ৬ মাসের জেল, ১০০ টাকা জরিমানা

‘এরা তো শিবির স্যার, নতুন ফোর্স লাগবে’, ডিসি মাসুদের ফোনালাপ ভাইরাল

আপডেট সময় ০৪:১৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আবারও সমালোচনায়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্র–জনতার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের আগে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এরা তো শিবির স্যার, আমাদের এখানে নতুন কিছু ফোর্স লাগবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

গতকাল ১৭ নভেম্বর, শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সময় ধানমন্ডি ৩২–এ উত্তেজনা দেখা দেয়। ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে এক্সকাভেটর নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর সেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয় এবং সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময়ই ডিসি মাসুদের ফোনালাপের ভিডিওটি ধারণ হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

’বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করে, আন্দোলন দমনে এখনো ‘শিবির ট্যাগ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ডিসি মাসুদ আন্দোলনকারীদের শিবির আখ্যা দিয়ে কঠোর পদক্ষেপের অনুমোদন নিয়েছেন। ভিডিও প্রকাশের পর তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ডিসি মাসুদকে ঘিরে এর আগেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এক ছাত্রের মুখ চেপে ধরা তার সেই ছবিটি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন—সে ভিডিওটিও তখন ভাইরাল হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। গত মে মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে দলটির নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে, তিনি খেলার মাঠ থেকে জার্সি পরা অবস্থায় ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল সামলান—এ ঘটনাও আলোচনায় আসে।

তবে বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। গত ১৫ এপ্রিল সায়েন্সল্যাবে সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সংঘর্ষের কারণ কেউ বলতে পারবে না, আল্লাহ ছাড়া।” ওই মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়। ডিসি মাসুদ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্প, পরে পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট ডিএমপিতে বদলি হয়ে রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগ দেন।