ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে যুবককে গুলি জুলাই গ্রাফিতি ইস্যুতে মধ্যরাতে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা আরব আমিরাতের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় আইএইএ’র উদ্বেগ অবশেষে নেইমার প্রসঙ্গে নীরবতা ভাঙলেন আনচেলত্তি রাজবাড়ীতে ৫৬ টাকার আবেদনে পুলিশের চাকুরি পেলেন ২০ জন আইনজীবীদের দুপক্ষের মারামারিতে আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ১৬ বছর পর জন্ম নেওয়া একমাত্র ছেলে, হাম কেড়ে নিল সাত মাসের সাজিদকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিজিবি বাধা দিলে কী হবে, জানালেন বিজেপির মন্ত্রী ‘বিএনপি ইজ রিজেক্ট’—কুমিল্লার সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কারিনার জানাজা অনুষ্ঠিত

২টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি পেলো বিএনপি, আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদন বিবেচনাধীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নেতাদের জন্য দুইটি বুলেটপ্রুফ মিনি বাসের অনুমতি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে প্রথম একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর অক্টোবরের প্রথম দিকে অনুমোদন দেওয়া হয় আরও একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গাড়িগুলো জাপান থেকে কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিএনপির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সারাদেশে প্রচারে যাবেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। এই সময়ে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমতি সাধারণত খুব কম দেওয়া হয়। অতীতে কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি দূতাবাস বা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্যই এ ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সূত্রে জানা গেছে, জাপান, কানাডা ও জার্মানি সাধারণত বুলেটপ্রুফ গাড়ি তৈরি করে। শেখ হাসিনার জন্য নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হয়েছিল জাপান থেকে। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, বেসরকারিভাবে কেউ বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনতে পারেন না, এটি সরকারিভাবে অনুমোদিত হতে হয়। একটি গাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ডলার, আর ৮০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আনলে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গত জুনে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার আবেদন করেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্যবহারের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার অনুমতিও চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন করেছে। দলটি একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্সের অনুমতি চেয়েছে, যা এখনো বিবেচনাধীন।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের আক্রমণ বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। ২০১৫ সালে তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন বিএনপি নেতারা, যা তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের পটভূমিতে বিএনপি নেতৃত্বের ওপর হামলার আশঙ্কা থেকেই এই নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে যুবককে গুলি

২টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি পেলো বিএনপি, আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদন বিবেচনাধীন

আপডেট সময় ১২:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নেতাদের জন্য দুইটি বুলেটপ্রুফ মিনি বাসের অনুমতি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে প্রথম একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর অক্টোবরের প্রথম দিকে অনুমোদন দেওয়া হয় আরও একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গাড়িগুলো জাপান থেকে কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিএনপির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সারাদেশে প্রচারে যাবেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। এই সময়ে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমতি সাধারণত খুব কম দেওয়া হয়। অতীতে কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি দূতাবাস বা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্যই এ ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সূত্রে জানা গেছে, জাপান, কানাডা ও জার্মানি সাধারণত বুলেটপ্রুফ গাড়ি তৈরি করে। শেখ হাসিনার জন্য নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হয়েছিল জাপান থেকে। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, বেসরকারিভাবে কেউ বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনতে পারেন না, এটি সরকারিভাবে অনুমোদিত হতে হয়। একটি গাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ডলার, আর ৮০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আনলে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গত জুনে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার আবেদন করেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্যবহারের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার অনুমতিও চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন করেছে। দলটি একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্সের অনুমতি চেয়েছে, যা এখনো বিবেচনাধীন।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের আক্রমণ বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। ২০১৫ সালে তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন বিএনপি নেতারা, যা তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের পটভূমিতে বিএনপি নেতৃত্বের ওপর হামলার আশঙ্কা থেকেই এই নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।