ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, তবে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশব্যাপী অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না, কারণ দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তাদের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন স্থগিত করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী প্যাসকেল গ্রোটেনহুইস সাক্ষাৎ করতে এলে ইউনূস এসব কথা বলেন। বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের সম্ভাবনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন। অতীতের তিনটি “কারচুপির নির্বাচন”-এ তারা ভোট দিতে পারেননি। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। যেসব তরুণরা আন্দোলনের সময় দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তারা এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে—এটাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের বড় দৃশ্য।

দ্রুত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডাচ উপমন্ত্রী প্যাসকেল। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মাস সময় হাতে থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চমৎকার প্রস্তুতি নিয়েছে।

বাংলাদেশের সদ্যপ্রণীত শ্রম আইনকেও তিনি স্বাগত জানান। তার মতে, এই সংস্কার ইউরোপসহ নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। চলতি মাসে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এই আইনে স্বাক্ষর করেন।

তিনি আরও জানান, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পিপিপি (PPP)-বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করার পরিকল্পনা করছে, যা শিগগিরই স্বাক্ষর হবে এবং ডাচ বিনিয়োগ আরও বাড়াবে।

প্যাসকেল বলেন, “৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস উন্নয়ন সহযোগী ছিল। এখন আমরা এই সম্পর্ককে রাজনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সমতাপূর্ণ অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে চাই।” এ ছাড়া যেসব ডাচ কোম্পানি এতদিন শুধু বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করত, তারা এখন বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, তবে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় ০৯:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশব্যাপী অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না, কারণ দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তাদের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন স্থগিত করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী প্যাসকেল গ্রোটেনহুইস সাক্ষাৎ করতে এলে ইউনূস এসব কথা বলেন। বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের সম্ভাবনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন। অতীতের তিনটি “কারচুপির নির্বাচন”-এ তারা ভোট দিতে পারেননি। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। যেসব তরুণরা আন্দোলনের সময় দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তারা এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে—এটাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের বড় দৃশ্য।

দ্রুত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডাচ উপমন্ত্রী প্যাসকেল। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মাস সময় হাতে থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চমৎকার প্রস্তুতি নিয়েছে।

বাংলাদেশের সদ্যপ্রণীত শ্রম আইনকেও তিনি স্বাগত জানান। তার মতে, এই সংস্কার ইউরোপসহ নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। চলতি মাসে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এই আইনে স্বাক্ষর করেন।

তিনি আরও জানান, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পিপিপি (PPP)-বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করার পরিকল্পনা করছে, যা শিগগিরই স্বাক্ষর হবে এবং ডাচ বিনিয়োগ আরও বাড়াবে।

প্যাসকেল বলেন, “৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস উন্নয়ন সহযোগী ছিল। এখন আমরা এই সম্পর্ককে রাজনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সমতাপূর্ণ অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে চাই।” এ ছাড়া যেসব ডাচ কোম্পানি এতদিন শুধু বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করত, তারা এখন বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।