বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বান্দরবান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (২০ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের পর উঠে আসে তাদের তৈরি ও প্রচারিত অশ্লীল কনটেন্ট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সিআইডি জানায়, এই দম্পতি শুধু নিজেরাই কনটেন্ট তৈরি করতেন না, বরং অন্য তরুণ-তরুণীদেরও এই কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করতেন। নতুনদের যুক্ত করলেই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে বাড়তি অর্থ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে তাদের প্রথম ভিডিও প্রকাশিত হয়। এরপর এক বছরে তারা মোট ১১২টি ভিডিও আপলোড করে, যা দেখা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখেরও বেশি বার। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে দুই দিন ধরে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া যুবক আগে থেকেই মাদক, চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে সিএনজি অটোরিকশা চুরি ও মাদক মামলার ওয়ারেন্টও রয়েছে। গ্রেপ্তার নারীটি তার তৃতীয় স্ত্রী বলে জানা গেছে। চার বছর আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মাঝে মাঝে বাড়িতে ফিরলেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল শীতল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, “এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কাজে জড়িত। কয়েক দিন আগেও সিএনজি চুরির ঘটনায় সালিশ হয়েছিল। আমরা তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।”
আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, “গ্রেপ্তার যুবক মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিএনজি চুরির অভিযোগ রয়েছে।”
অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, দম্পতিটি কেবল একটি সাইটেই নয়— বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট, টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও সক্রিয় ছিল। নিজেদের আয় ও নতুন ভিডিওর লিংক তারা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























