বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বেশিরভাগ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে জুলাই-আগস্টে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যদিও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো গত বছরের তুলনায় কম, তবু ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের চাপ দেখা যাচ্ছে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে।
দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুমুক্ত রয়েছে মাত্র ছয়টি জেলা। এগুলো হলো—শরীয়তপুর, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৬৮০ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৭ জন।
অন্যদিকে, গত বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্চ মাস থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোগীর চাপ মোকাবিলায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এক লাখ ব্যাগ স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে বরাদ্দ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় হালনাগাদ করা হয়েছে জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে, যেখানে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও আরও এক থেকে দেড় মাস ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। সাধারণত জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ না করা হলে অক্টোবরের পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























