ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাবির ছাত্রী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা কোটালীপাড়ার সেতুতে ফুটবল দেশের পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় শাহজালালে বিমানের ইঞ্জিন বিকল, জরুরি দরজা ভে’ঙে যাত্রী উ’দ্ধা’র ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক’ আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা! বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় চীন-বাংলাদেশের ঐকমত্য ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিলো ভারত বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার ও অনুপ্রবেশ নিয়ে হুঁশিয়ারি মোদির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

দেশভাগের ইতিহাস, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ—এই তিন ইস্যুকে সামনে এনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজ্যের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন মোদি।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশভাগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে সরব হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের Tarakeswar-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে’ পরিণত হতে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা Suvendu Adhikari এবং রাজ্যপাল R. N. Ravi

বক্তব্যে মোদি বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল কংগ্রেস। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস তোষণের রাজনীতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র বসু এবং ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর মতো মনীষীদের ভূমিতে বিদেশি চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একের পর এক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যাকে গুরুত্ব দেয়নি।

দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই বেদনাদায়ক ইতিহাসের মধ্য দিয়েও বাংলা তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, ইতিহাস স্মরণেরও দিন। তাঁর মতে, যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছিল, তখন Syama Prasad Mukherjee তার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের সময়ে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আগে পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।

মোদির এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির ছাত্রী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার ও অনুপ্রবেশ নিয়ে হুঁশিয়ারি মোদির

আপডেট সময় ১১:২৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

দেশভাগের ইতিহাস, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ—এই তিন ইস্যুকে সামনে এনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজ্যের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন মোদি।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশভাগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে সরব হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের Tarakeswar-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে’ পরিণত হতে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা Suvendu Adhikari এবং রাজ্যপাল R. N. Ravi

বক্তব্যে মোদি বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল কংগ্রেস। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস তোষণের রাজনীতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র বসু এবং ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর মতো মনীষীদের ভূমিতে বিদেশি চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একের পর এক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যাকে গুরুত্ব দেয়নি।

দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই বেদনাদায়ক ইতিহাসের মধ্য দিয়েও বাংলা তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, ইতিহাস স্মরণেরও দিন। তাঁর মতে, যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছিল, তখন Syama Prasad Mukherjee তার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের সময়ে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আগে পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।

মোদির এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।