ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারকে বড় শাস্তি দিতে পারে ফিফা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১০ গোলে পরাজয়ের পর ম্যাচ শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তি হতে পারে। ফাইনাল শেষে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপন করতে গেলে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের এরিক গার্সিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। পরে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার দিকে একটি বুট ছুড়ে মারারও চেষ্টা করেন। এ সময় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা সংঘর্ষে অংশ নিয়ে গাভিকে মাটিতে চেপে ধরতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এদিকে, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনারলেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনা আলাদাভাবে ফিফার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে সব অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু নিক্ষেপ করা বা আঘাত করার মতো আচরণ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিতাদেশের বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবলসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারকে বড় শাস্তি দিতে পারে ফিফা

আপডেট সময় ১০:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১০ গোলে পরাজয়ের পর ম্যাচ শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তি হতে পারে। ফাইনাল শেষে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপন করতে গেলে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের এরিক গার্সিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। পরে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার দিকে একটি বুট ছুড়ে মারারও চেষ্টা করেন। এ সময় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা সংঘর্ষে অংশ নিয়ে গাভিকে মাটিতে চেপে ধরতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এদিকে, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনারলেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনা আলাদাভাবে ফিফার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে সব অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু নিক্ষেপ করা বা আঘাত করার মতো আচরণ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিতাদেশের বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবলসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।