যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ। সোমবার এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ দুটি ধাপে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ইরানের তেল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মূল নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল থাকবে। তবে তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় বিশেষ ছাড় বা ‘ওয়েভার’ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, লেবাননের পরিস্থিতি, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং জব্দকৃত অর্থ মুক্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সমন্বয় কেন্দ্র গঠনের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন সমন্বয় কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের প্রথম ধাপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ধারাবাহিকতায় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করার ঘোষণা দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই কূটনৈতিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















