ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসলাম ধর্মে দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াতে আমির খালে উল্টে পড়ল মাছভর্তি পিকআপ, চালককে ফেলে মাছ কুড়াতেই ব্যস্ত স্থানীয়রা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী কান্না সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে হত্যা, বাবা আটক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান ভরসা এএন-৩২ বিমান বি’ধ্ব’স্ত এবার নদী পথে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি ‘শিগগিরই ইরানের বিজয়ের প্রতিধ্বনি শুনবে বিশ্ব’ ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে চেয়েছিল মার্কিন বাহিনী, ঠেকিয়েছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ‘খুব কাছাকাছি‘: আব্বাস আরাগচি

জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো: প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করলেন চরমোনাই পীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • ৫৮৮ বার পড়া হয়েছে

“আমরা জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো। কিন্তু মাঝপথে আপনি রণভঙ্গ দেবেন, আর মাঝপথে সমুদ্রে আপনি আমাদেরকে ফেলে চলে যাবেন এটা হতে পারে না।” এমন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

গতকাল রবিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। তবে তারও আগে প্রয়োজনীয় ও মৌলিক সংস্কার, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করা এই সরকারের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

চরমোনাই পীর বলেন, “জুনের একদিনের পরেও এই সরকার থাকবে না ২০২৬, এটা আপনার নিশ্চিত থাকেন। দেশের একটা ক্রান্তি লগ্নে আমরা এসেছিলাম সম্মানিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আমাদের সম্মানিত ইউনূস সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য। আমরা তাকে বলেছিলাম যে, জুলাই-আগস্টের যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে হাজার হাজার মায়ের কোল সন্তানহারা হয়েছে, উদীয়মান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “অনেকে চোখ হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এতগুলো ত্যাগের পর আমরা এই দেশটাকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। আমরা বলেছিলাম সম্মানিত উপদেষ্টাকে, আপনি তখন দেশে ছিলেন না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে, জনগণের আহ্বানে আপনাকে নিয়ে এসেছিলাম আমরা। একসঙ্গে সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চেয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “মাঝপথে আপনি হয়তো কষ্ট পেয়েছেন বা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নানা কায়দায় মানসিক নির্যাতনও চলছে এটা আমরা অনুভব করছি। কিন্তু আমরা যারা রাজপথে আছি, যারা দেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করছি, তাদের পক্ষ থেকে বলছি, জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো। মাঝপথে রণভঙ্গ দিয়ে চলে যাওয়া চলবে না। এই চিন্তা যেন আপনার মাথায় না আসে, সে আশ্বাস আমরা দিয়েছি।” সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “আমার ভাই তো বলেছেনই, প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে জাতির প্রত্যাশিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। সেখানে পেশিশক্তি, কালো টাকার দৌরাত্ম্যসহ নানা ফাঁদে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “যদি সংস্কার না হয়, তাহলে আবারও সেই কলঙ্কিত ইতিহাস ফিরে আসবে। ২৪ আগস্টের অভ্যুত্থানের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এজন্য আমরা বলেছি, সংস্কারগুলো দৃশ্যমান করতে হবে। আর যারা মায়েদের কোল খালি করেছে, যারা সন্তানহারা করেছে, পঙ্গু করেছে, যারা আয়নাঘর বানিয়েছে—তাদের বিচার করতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী।” চরমোনাইয়ের পীর স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন যদি আগে হয়, তাহলে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব ঠেকানো সম্ভব হবে। এর ফলে জনপ্রতিনিধিত্বের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে।”

তিনি বলেন, “আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যেন আমরা এই দেশ গড়ার কাজে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল, যুব অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা, প্রশাসন এবং সাংবাদিক বন্ধুরা সবাই মিলে একাকার হয়ে আমরা যেন দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি।”

তিনি জানান, “আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা বলেছি, অনেকে দাবি করে ডিসেম্বর, কেউ রমজান, কেউ আবার অন্য সময় নির্বাচন চান। কিন্তু আপনি বলছেন, জুনের মধ্যে হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘জুনের একদিনের পরেও এই সরকার থাকবে না ২০২৬।’ এটা পরিষ্কারভাবে তিনি বলেছেন। সুতরাং আমরা এতে আস্থা রাখতে পারি।” আলোচনার একপর্যায়ে চরমোনাইয়ের পীর আরও বলেন, “যেসব বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন সরকার আরও সচেতন থাকে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলাম ধর্মে দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান

জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো: প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করলেন চরমোনাই পীর

আপডেট সময় ১২:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

“আমরা জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো। কিন্তু মাঝপথে আপনি রণভঙ্গ দেবেন, আর মাঝপথে সমুদ্রে আপনি আমাদেরকে ফেলে চলে যাবেন এটা হতে পারে না।” এমন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

গতকাল রবিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। তবে তারও আগে প্রয়োজনীয় ও মৌলিক সংস্কার, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করা এই সরকারের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

চরমোনাই পীর বলেন, “জুনের একদিনের পরেও এই সরকার থাকবে না ২০২৬, এটা আপনার নিশ্চিত থাকেন। দেশের একটা ক্রান্তি লগ্নে আমরা এসেছিলাম সম্মানিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আমাদের সম্মানিত ইউনূস সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য। আমরা তাকে বলেছিলাম যে, জুলাই-আগস্টের যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে হাজার হাজার মায়ের কোল সন্তানহারা হয়েছে, উদীয়মান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “অনেকে চোখ হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এতগুলো ত্যাগের পর আমরা এই দেশটাকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। আমরা বলেছিলাম সম্মানিত উপদেষ্টাকে, আপনি তখন দেশে ছিলেন না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে, জনগণের আহ্বানে আপনাকে নিয়ে এসেছিলাম আমরা। একসঙ্গে সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চেয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “মাঝপথে আপনি হয়তো কষ্ট পেয়েছেন বা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নানা কায়দায় মানসিক নির্যাতনও চলছে এটা আমরা অনুভব করছি। কিন্তু আমরা যারা রাজপথে আছি, যারা দেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করছি, তাদের পক্ষ থেকে বলছি, জিতলে একসঙ্গে জিতব, ঠকলেও একসঙ্গে ঠকবো। মাঝপথে রণভঙ্গ দিয়ে চলে যাওয়া চলবে না। এই চিন্তা যেন আপনার মাথায় না আসে, সে আশ্বাস আমরা দিয়েছি।” সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “আমার ভাই তো বলেছেনই, প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে জাতির প্রত্যাশিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। সেখানে পেশিশক্তি, কালো টাকার দৌরাত্ম্যসহ নানা ফাঁদে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “যদি সংস্কার না হয়, তাহলে আবারও সেই কলঙ্কিত ইতিহাস ফিরে আসবে। ২৪ আগস্টের অভ্যুত্থানের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এজন্য আমরা বলেছি, সংস্কারগুলো দৃশ্যমান করতে হবে। আর যারা মায়েদের কোল খালি করেছে, যারা সন্তানহারা করেছে, পঙ্গু করেছে, যারা আয়নাঘর বানিয়েছে—তাদের বিচার করতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী।” চরমোনাইয়ের পীর স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন যদি আগে হয়, তাহলে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব ঠেকানো সম্ভব হবে। এর ফলে জনপ্রতিনিধিত্বের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে।”

তিনি বলেন, “আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যেন আমরা এই দেশ গড়ার কাজে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল, যুব অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা, প্রশাসন এবং সাংবাদিক বন্ধুরা সবাই মিলে একাকার হয়ে আমরা যেন দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি।”

তিনি জানান, “আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা বলেছি, অনেকে দাবি করে ডিসেম্বর, কেউ রমজান, কেউ আবার অন্য সময় নির্বাচন চান। কিন্তু আপনি বলছেন, জুনের মধ্যে হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘জুনের একদিনের পরেও এই সরকার থাকবে না ২০২৬।’ এটা পরিষ্কারভাবে তিনি বলেছেন। সুতরাং আমরা এতে আস্থা রাখতে পারি।” আলোচনার একপর্যায়ে চরমোনাইয়ের পীর আরও বলেন, “যেসব বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন সরকার আরও সচেতন থাকে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।”