ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির

সংসদে বড় নোট বাতিলের প্রস্তাব, শুরু আলোচনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে জাতীয় সংসদে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাবি করেছেন, কালো টাকা, মানিলন্ডারিং এবং অপ্রদর্শিত অর্থের প্রবাহ কমাতে উচ্চ মূল্যমানের এসব নোট বাতিল করা প্রয়োজন।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতে, দেশের অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া বিগত সরকারের সময় দেশত্যাগকারী ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আবারও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, যাদের অর্থের বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, বিনিয়োগে গতি আসবে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন ব্যাংকিং খাত নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। দুর্বল ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখতে জনগণের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য আসেনি। তাই শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয়, বরং দেশে এমন একটি আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ ও অর্থ সংরক্ষণে আস্থা পাবে।

এদিকে, সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ভারতের ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত নোট বাতিল কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও পরে প্রায় সব নোটই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসে এবং সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে এখনো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান

সংসদে বড় নোট বাতিলের প্রস্তাব, শুরু আলোচনা

আপডেট সময় ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

দেশে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে জাতীয় সংসদে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাবি করেছেন, কালো টাকা, মানিলন্ডারিং এবং অপ্রদর্শিত অর্থের প্রবাহ কমাতে উচ্চ মূল্যমানের এসব নোট বাতিল করা প্রয়োজন।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতে, দেশের অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া বিগত সরকারের সময় দেশত্যাগকারী ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আবারও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, যাদের অর্থের বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, বিনিয়োগে গতি আসবে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন ব্যাংকিং খাত নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। দুর্বল ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখতে জনগণের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য আসেনি। তাই শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয়, বরং দেশে এমন একটি আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ ও অর্থ সংরক্ষণে আস্থা পাবে।

এদিকে, সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ভারতের ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত নোট বাতিল কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও পরে প্রায় সব নোটই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসে এবং সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে এখনো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।