ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুর বিভাগকে বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা যাবে না: আখতার হোসেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান বিজেপি মন্ত্রীর জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় : রিজভী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি ও পুরুষাঙ্গে মরিচের গুঁড়া লাগালো এলাকাবাসী মাদক-চাঁদাবাজদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার দিল্লির আন্দোলন ঘিরে কঙ্গনার কড়া সমালোচনা আর্জেন্টিনাকে কাঁদানো ফেরান তোরেসের জীবনের গল্প আর্জেন্টিনার হারে মেসির পাশে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন

ভাঙা আঙুল নিয়েই ১১ সেভ, ফাইনালে ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

লিওনেল মেসিরলাস্ট ড্যান্স’-এ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল। একপেশে ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশরা। শেষ বাঁশি বাজার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, পাও কুবার্সিরা। অন্যদিকে হতাশায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল ও জিওভান্নি সিমিওনিরা। তবে ম্যাচটি যে ১২০ মিনিট পর্যন্ত গড়াবে, তা কেউ ভাবেননি।

তার মূল কারণ ছিলেন একজনইএমিলিয়ানোদিবুমার্তিনেজ। ভাঙা আঙুল নিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও ফাইনালে তিনি দেখিয়েছেন কেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে বিবেচিত হন। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে দীর্ঘ সময় স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১টি সেভের পর ভাঙে তার দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে জয়ের হাসি হাসে স্পেন। আর অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থাকেন মার্তিনেজ।

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের আগের রেকর্ড ছিল ৯টি। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন ৩৩ বছর বয়সী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তিনি করেন ১১টি সেভ। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজের নাম তুলে নিলেন ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচের শুরু থেকেই যেন স্পেনের প্রতিটি আক্রমণের সামনে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া, পেদ্রি ও ফেরান তোরেসদের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন মার্তিনেজ। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের শুরুতেই ইয়ামালের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। ৩৯তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলের সুযোগও নষ্ট করে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলেক্স বায়েনার শট ফিরিয়ে দেন, এরপর ৬৭তম মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন। ৭৭তম মিনিটে টানা পেদ্রি ও ইয়ামালের দুটি শট প্রতিহত করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রিকিকও উড়ে গিয়ে রক্ষা করেন।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এবারও ফাইনালের আগে জানিয়েছিলেন, আঙুলের চোট তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দেবে না। মাঠে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। খেটে খাওয়া পরিবার থেকে উঠে আসা এই গোলরক্ষক ফাইনালেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। একাই হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তাই রেকর্ড গড়েও ট্রফিবঞ্চিত থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো এমিলিয়ানোদিবুমার্তিনেজকে। সূত্র : এই সময় অনলাইন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর বিভাগকে বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা যাবে না: আখতার হোসেন

ভাঙা আঙুল নিয়েই ১১ সেভ, ফাইনালে ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

আপডেট সময় ১০:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিরলাস্ট ড্যান্স’-এ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল। একপেশে ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশরা। শেষ বাঁশি বাজার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, পাও কুবার্সিরা। অন্যদিকে হতাশায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল ও জিওভান্নি সিমিওনিরা। তবে ম্যাচটি যে ১২০ মিনিট পর্যন্ত গড়াবে, তা কেউ ভাবেননি।

তার মূল কারণ ছিলেন একজনইএমিলিয়ানোদিবুমার্তিনেজ। ভাঙা আঙুল নিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও ফাইনালে তিনি দেখিয়েছেন কেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে বিবেচিত হন। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে দীর্ঘ সময় স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১টি সেভের পর ভাঙে তার দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে জয়ের হাসি হাসে স্পেন। আর অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থাকেন মার্তিনেজ।

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের আগের রেকর্ড ছিল ৯টি। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন ৩৩ বছর বয়সী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তিনি করেন ১১টি সেভ। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজের নাম তুলে নিলেন ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচের শুরু থেকেই যেন স্পেনের প্রতিটি আক্রমণের সামনে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া, পেদ্রি ও ফেরান তোরেসদের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন মার্তিনেজ। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের শুরুতেই ইয়ামালের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। ৩৯তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলের সুযোগও নষ্ট করে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলেক্স বায়েনার শট ফিরিয়ে দেন, এরপর ৬৭তম মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন। ৭৭তম মিনিটে টানা পেদ্রি ও ইয়ামালের দুটি শট প্রতিহত করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রিকিকও উড়ে গিয়ে রক্ষা করেন।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এবারও ফাইনালের আগে জানিয়েছিলেন, আঙুলের চোট তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দেবে না। মাঠে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। খেটে খাওয়া পরিবার থেকে উঠে আসা এই গোলরক্ষক ফাইনালেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। একাই হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তাই রেকর্ড গড়েও ট্রফিবঞ্চিত থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো এমিলিয়ানোদিবুমার্তিনেজকে। সূত্র : এই সময় অনলাইন