ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল বিসিবির টাকা এসেছে ক্রিকেটারদের শ্রমে ঘামে: মেহেদী মিরাজ

সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

এবার নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাদের গভীর মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইঙ্গিত দিচ্ছে, উভয় পক্ষই জনসমক্ষে বক্তব্য কমিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও বৃহত্তর অগ্রগতি এখনো অধরা রয়ে গেছে।

এদিকে ইসলামাবাদের দাবি, আফগান মাটি যেন পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার করা না হয়। এ বিষয়ে পর্দার আড়ালে কূটনীতির কারণে অন্তত একটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে বাকবিতণ্ডা কমানো এবং সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে দুই দেশ।

মধ্যস্থতাকারীরা চাইছেন, উভয় পক্ষই অন্তত জনসমক্ষে বাকবিতণ্ডা কমিয়ে আনবে, যাতে আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। মধ্যস্থতাকারীরা তালেবান সরকারকে ফতোয়া জারি এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবেলায় প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার মতো কিছু পদক্ষেপ নিতে রাজি করিয়েছেন। আফগানিস্তানের ধর্মীয় নেতারা সম্প্রতি দেশের সীমান্তের বাইরে আক্রমণ চালানো নিষিদ্ধ করতে একটি ফতোয়া জারি করেছেন। যাকে ইসলামাবাদ একটি সম্ভাব্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

ফতোয়ার কিছুক্ষণ পরেই, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছেন, আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। তার মন্তব্যকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা উত্তেজনা হ্রাস এবং আস্থা পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।

গত শনিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হাক্কানির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংঘর্ষের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, রোববার সিরাজউদ্দিন হাক্কানি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের জারি করা একটি পৃথক বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আলেমরা উভয় সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরআগে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আলেমদের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলেমরা ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনার সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রায়শই সমাজকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করতে সাহায্য করেছেন। একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও, দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি সীমিত। তালেবান সরকার এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।

পাকিস্তান বারবার জোর দিয়ে বলছে, সম্পর্ক উন্নয়ন টিটিপির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল। তবে কাবুল দাবি করছে, তারা তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয় না। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলছেন, পাকিস্তান আশ্বাস নয় বরং দৃঢ় পদক্ষেপ চাইছে, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে। কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামাবাদ বিশ্বাস করে যে সীমিত, দৃশ্যমান পদক্ষেপও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করতে সাহায্য করতে পারে।

দার বলেন, তালেবান সরকার যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যদি লক্ষণীয় পার্থক্য দেখা যায়, তাহলে পাকিস্তান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ আশ্বাসের পরিবর্তে পরিবর্তনের বাস্তব লক্ষণ দেখতে চাইছে। আপাতত, উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান যাচাই করছে বলে মনে হচ্ছে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা

সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান

আপডেট সময় ০২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাদের গভীর মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইঙ্গিত দিচ্ছে, উভয় পক্ষই জনসমক্ষে বক্তব্য কমিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও বৃহত্তর অগ্রগতি এখনো অধরা রয়ে গেছে।

এদিকে ইসলামাবাদের দাবি, আফগান মাটি যেন পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার করা না হয়। এ বিষয়ে পর্দার আড়ালে কূটনীতির কারণে অন্তত একটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে বাকবিতণ্ডা কমানো এবং সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে দুই দেশ।

মধ্যস্থতাকারীরা চাইছেন, উভয় পক্ষই অন্তত জনসমক্ষে বাকবিতণ্ডা কমিয়ে আনবে, যাতে আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। মধ্যস্থতাকারীরা তালেবান সরকারকে ফতোয়া জারি এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবেলায় প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার মতো কিছু পদক্ষেপ নিতে রাজি করিয়েছেন। আফগানিস্তানের ধর্মীয় নেতারা সম্প্রতি দেশের সীমান্তের বাইরে আক্রমণ চালানো নিষিদ্ধ করতে একটি ফতোয়া জারি করেছেন। যাকে ইসলামাবাদ একটি সম্ভাব্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

ফতোয়ার কিছুক্ষণ পরেই, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছেন, আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। তার মন্তব্যকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা উত্তেজনা হ্রাস এবং আস্থা পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।

গত শনিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হাক্কানির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংঘর্ষের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, রোববার সিরাজউদ্দিন হাক্কানি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের জারি করা একটি পৃথক বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আলেমরা উভয় সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরআগে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আলেমদের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলেমরা ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনার সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রায়শই সমাজকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করতে সাহায্য করেছেন। একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও, দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি সীমিত। তালেবান সরকার এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।

পাকিস্তান বারবার জোর দিয়ে বলছে, সম্পর্ক উন্নয়ন টিটিপির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল। তবে কাবুল দাবি করছে, তারা তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয় না। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলছেন, পাকিস্তান আশ্বাস নয় বরং দৃঢ় পদক্ষেপ চাইছে, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে। কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামাবাদ বিশ্বাস করে যে সীমিত, দৃশ্যমান পদক্ষেপও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করতে সাহায্য করতে পারে।

দার বলেন, তালেবান সরকার যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যদি লক্ষণীয় পার্থক্য দেখা যায়, তাহলে পাকিস্তান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ আশ্বাসের পরিবর্তে পরিবর্তনের বাস্তব লক্ষণ দেখতে চাইছে। আপাতত, উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান যাচাই করছে বলে মনে হচ্ছে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন