ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান আল্লাহর আইন যারা চায়, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী: জামায়াত আমির ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি কিশোরসহ নিহত ৫ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জিয়া মঞ্চের ’জিয়া’ গ্রেপ্তার ইয়াবা দিয়ে বাবা ও মেয়েকে ফাঁসাতে গিয়ে এসআই প্রত্যাহার তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদলের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় ও সেমিনার নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত টাঙ্গাইলে মাদক ব্যবসায়ির বাড়ি ভেঙে দিল এলাকাবাসী

জেদ করো না, আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই: ছাত্রীকে খুবির অধ্যাপক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৩৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, একান্ত সাক্ষাতের চাপ ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, ‘গাড়ি ড্রাইভ করা অবস্থায় অধ্যাপক ড. রুবেল তার হাত চেপে ধরেন এবং বলেন ‘জেদ করো না; আমি যা চাই তাই করে নিই। আজ না হোক কাল আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই।’

ওই ছাত্রীর অভিযোগটি তদন্তের জন্য সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।ওই শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে এই অভিযোগ করেছেন। যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে জমা দেয়া তিন পাতার অভিযোগে ওই ছাত্রী ধারাবাহিকভাবে তাকে হয়রানির অভিযোগের বিভিন্ন বর্ণনা দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশটও জমা দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘সঠিক সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারিনি, সে জন্য স্যারের সঙ্গে কথা বলতে যাই। তিনি আমার সঙ্গে ৪০-৪৫ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। পরে একপর্যায়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, তোমার হাত যদি পরীক্ষার আগে ঠিক না হয়, তাহলে আমি ফুঁ দিয়ে ঠিক করে দেব।’ তিনি আরও বলেন, যেহেতু তুমি খুলনায় নতুন, তোমার যদি কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করে অথবা অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে যাওয়া লাগে, আমাকে নির্দ্বিধায় জানাবে।’

অভিযোগের একটি অংশে ওই শিক্ষার্থী আরও উল্লেখ করেন, ‘হঠাৎ তিনি একদিন কল দেন এবং তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন। আমি নিরালা মোড়ে গেলে তিনি কিছু কথা বলার অনুরোধ করে গাড়িতে উঠতে বলেন। তখন কথা বলার একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে (প্রকাশযোগ্য নয়) সরাসরি অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি কথাগুলো শুনে আপত্তি করি এবং রেগে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। তিনি তখন ড্রাইভ করা অবস্থায় আমার হাত চেপে ধরেন এবং বলেন ‘জেদ করো না; আমি যা চাই তাই আমার করে নিই। আজ না হোক কাল আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই।’

জোর করে তার হাত ছাড়ানোর পর তিনি আবার বলেন, ‘আমি কখনো এত দিন কারও পেছনে ঘুরিনি, কারও জন্য অপেক্ষাও করিনি, তোমার জন্যই এতদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি তোমার রেজাল্টও বাড়িয়ে দেব, তোমার রেজাল্ট ৩.৫০ হয়ে যাবে। এসব শোনার পরে আমি দ্রুত তার গাড়ি থেকে নেমে কোনো রকমে আত্মরক্ষা করি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, গত ৭ আগস্ট অফিস শেষে অভিযোগটি জমা দেয়া হয়। রোববার অফিস খোলার পর আবেদনটি দেখে সেটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যে কোনো হয়রানি বন্ধে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বিষয়টি ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্তে যদি আমার দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদেয় শাস্তি আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আর যদি এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে তদন্ত শেষে তাও সবাই জানতে পারবেন।’ এ বিষয়ে খুবির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তের জন্য সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

জেদ করো না, আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই: ছাত্রীকে খুবির অধ্যাপক

আপডেট সময় ০২:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, একান্ত সাক্ষাতের চাপ ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, ‘গাড়ি ড্রাইভ করা অবস্থায় অধ্যাপক ড. রুবেল তার হাত চেপে ধরেন এবং বলেন ‘জেদ করো না; আমি যা চাই তাই করে নিই। আজ না হোক কাল আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই।’

ওই ছাত্রীর অভিযোগটি তদন্তের জন্য সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।ওই শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে এই অভিযোগ করেছেন। যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে জমা দেয়া তিন পাতার অভিযোগে ওই ছাত্রী ধারাবাহিকভাবে তাকে হয়রানির অভিযোগের বিভিন্ন বর্ণনা দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশটও জমা দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘সঠিক সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারিনি, সে জন্য স্যারের সঙ্গে কথা বলতে যাই। তিনি আমার সঙ্গে ৪০-৪৫ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। পরে একপর্যায়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, তোমার হাত যদি পরীক্ষার আগে ঠিক না হয়, তাহলে আমি ফুঁ দিয়ে ঠিক করে দেব।’ তিনি আরও বলেন, যেহেতু তুমি খুলনায় নতুন, তোমার যদি কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করে অথবা অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে যাওয়া লাগে, আমাকে নির্দ্বিধায় জানাবে।’

অভিযোগের একটি অংশে ওই শিক্ষার্থী আরও উল্লেখ করেন, ‘হঠাৎ তিনি একদিন কল দেন এবং তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন। আমি নিরালা মোড়ে গেলে তিনি কিছু কথা বলার অনুরোধ করে গাড়িতে উঠতে বলেন। তখন কথা বলার একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে (প্রকাশযোগ্য নয়) সরাসরি অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি কথাগুলো শুনে আপত্তি করি এবং রেগে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। তিনি তখন ড্রাইভ করা অবস্থায় আমার হাত চেপে ধরেন এবং বলেন ‘জেদ করো না; আমি যা চাই তাই আমার করে নিই। আজ না হোক কাল আমার ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেবই।’

জোর করে তার হাত ছাড়ানোর পর তিনি আবার বলেন, ‘আমি কখনো এত দিন কারও পেছনে ঘুরিনি, কারও জন্য অপেক্ষাও করিনি, তোমার জন্যই এতদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি তোমার রেজাল্টও বাড়িয়ে দেব, তোমার রেজাল্ট ৩.৫০ হয়ে যাবে। এসব শোনার পরে আমি দ্রুত তার গাড়ি থেকে নেমে কোনো রকমে আত্মরক্ষা করি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, গত ৭ আগস্ট অফিস শেষে অভিযোগটি জমা দেয়া হয়। রোববার অফিস খোলার পর আবেদনটি দেখে সেটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যে কোনো হয়রানি বন্ধে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বিষয়টি ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্তে যদি আমার দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদেয় শাস্তি আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আর যদি এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে তদন্ত শেষে তাও সবাই জানতে পারবেন।’ এ বিষয়ে খুবির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তের জন্য সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে।’