ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের টানে চীন থেকে নাসিরনগরে, মুসলিম রীতিতে বিয়ের প্রস্তুতি চীনা যুবক ওয়াং তাওর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ওয়াং তাও নামের এক চীনা যুবক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের তরুণী সুরমা আক্তারের সঙ্গে অনলাইনে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার। জেলা জজ আদালতে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেয়ের পরিবার। এ আন্তর্জাতীয় প্রেমের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে সুরমা আক্তার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওয়াং তাও চীনের হুনান প্রদেশের ওয়াং ইচাং চাওয়ের ছেলে। আগামীকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলে দাবি করেছে সুরমার পরিবার।

গতকাল (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়াং তাওকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন সুরমার স্বজনরা।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেড় মাস আগে ‘ওয়াল টক’ নামের একটি অ্যাপে তাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। দুই পরিবারের সম্মতির পর ওয়াং তাও বাংলাদেশে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চীনা যুবককে দেখতে গ্রামজুড়ে মানুষের ভিড় জমে যায়।

সুরমার দাদি হালিমা আক্তার বলেন, ‘আমার নাতনির ভালোবাসা পেতে সে চীন থেকে এসেছে। ওই যুবক কোনো ধর্ম বিশ্বাস করে না। তবে বিয়ের আগে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে। আগামী রোববার আদালতে মুসলিম রীতি মেনে সুরমাকে বিয়ে করবে। এতে দুই পরিবারেরই সম্মতি রয়েছে। আমরা খুব আনন্দিত।’

নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক ও কুন্ডা ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. জাহান-ই-আলম জানান, ‘চীনা যুবক নাসিরনগরে আসার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তার পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হই তিনি চীনের নাগরিক। শুনেছি, আগামীকাল আদালতে তাদের বিয়ে হবে।’

কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘চীনা নাগরিকের আগমনের খবরে গ্রামে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।’

ভালোবাসার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় আনন্দিত দুই পরিবার ও স্থানীয়রা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলিস্তানে জামায়াতের মিছিলে হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে

প্রেমের টানে চীন থেকে নাসিরনগরে, মুসলিম রীতিতে বিয়ের প্রস্তুতি চীনা যুবক ওয়াং তাওর

আপডেট সময় ১০:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ওয়াং তাও নামের এক চীনা যুবক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের তরুণী সুরমা আক্তারের সঙ্গে অনলাইনে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার। জেলা জজ আদালতে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেয়ের পরিবার। এ আন্তর্জাতীয় প্রেমের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে সুরমা আক্তার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওয়াং তাও চীনের হুনান প্রদেশের ওয়াং ইচাং চাওয়ের ছেলে। আগামীকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলে দাবি করেছে সুরমার পরিবার।

গতকাল (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়াং তাওকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন সুরমার স্বজনরা।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেড় মাস আগে ‘ওয়াল টক’ নামের একটি অ্যাপে তাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। দুই পরিবারের সম্মতির পর ওয়াং তাও বাংলাদেশে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চীনা যুবককে দেখতে গ্রামজুড়ে মানুষের ভিড় জমে যায়।

সুরমার দাদি হালিমা আক্তার বলেন, ‘আমার নাতনির ভালোবাসা পেতে সে চীন থেকে এসেছে। ওই যুবক কোনো ধর্ম বিশ্বাস করে না। তবে বিয়ের আগে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে। আগামী রোববার আদালতে মুসলিম রীতি মেনে সুরমাকে বিয়ে করবে। এতে দুই পরিবারেরই সম্মতি রয়েছে। আমরা খুব আনন্দিত।’

নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক ও কুন্ডা ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. জাহান-ই-আলম জানান, ‘চীনা যুবক নাসিরনগরে আসার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তার পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হই তিনি চীনের নাগরিক। শুনেছি, আগামীকাল আদালতে তাদের বিয়ে হবে।’

কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘চীনা নাগরিকের আগমনের খবরে গ্রামে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।’

ভালোবাসার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় আনন্দিত দুই পরিবার ও স্থানীয়রা।