ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুর্নীতি করলে বদলি নয়, হবে কঠোর শাস্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেষ ষোলোতে মুখোমুখি দুই মুসলিম দেশ নকআউটের আগে ফ্রান্সের দুশ্চিন্তা বাড়াল নতুন দুঃসংবাদ ইতিহাস বলছে এবারের চ্যাম্পিয়ন হবে ব্রাজিল নরওয়ে ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের মেসিই ভরসা, নাকি এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা? খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ আর ‘প্রতিশোধের’ স্লোগান জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: ডা. শফিকুর রহমান ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময় বদলের গুঞ্জন, জানাল ফিফা বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কা, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময় পরিবর্তন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলো ফিফা

বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক — ঘটনায় পুলিশের ৩ এসআই আহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনা: বনা সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গীতে রাত ৮টার দিকে (রোববার, ২ নভেম্বর) নামাজরত অবস্থায় নিজাম প্রামাণিক (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে; ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করতে গেলে তিন উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত নিজাম প্রামাণিক মৃত ইন্তাজ প্রামাণিকের ছেলে এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা প্রামাণিক একই এলাকার নিজামীনের সঙ্গে জীবিকাসহ কৃষি কাজে যুক্ত ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা ওই বাজার থেকে দুধ বিক্রি করে বাসায় ফেরেন নিজাম। খাওয়া-দাওয়ার পর তিনি এশার নামাজে দাঁড়ান। ওই সময় সুযোগ বুঝে দরজা আটকে রেখে ছেলে মোস্তফা হাঁসুয়া নিয়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘর থেকে বের হন এবং পাশের রুমে তালাবদ্ধ হয়ে বসে থাকেন।

বাড়ির লোকজন পরে ঘরে ঢুকলে লাশ পড়ে থাকতে দেখে এবং পরে স্থানীয়রা তাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে।

আটকের সময় অভিযুক্তের ছুরিকাঘাতে সদর থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক, এসআই জিয়াউর রহমান ও এসআই আবু রায়হান আহত হন। তাদের মধ্যে এসআই জিয়াউর রহমানকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে; বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন, “আমার বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। আগে ও আমাকে মেহগনির ঢাল দিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল। মাদক চাহিদার কারণে পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাইত; না পেলে ঘরে ভাঙচুর করত। আজও সে আমাকে হত্যা করতে গামছায় হাঁসুয়া নিয়ে মাঠে খোঁজাখুঁজি করেছিল।” তিনি আরও বলেন, “যদি তাকে এখনই ফাঁসি দেয়া হয় আমরা কোনো দাবি-দাওয়া রাখব না।”

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে আছে — বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি করলে বদলি নয়, হবে কঠোর শাস্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক — ঘটনায় পুলিশের ৩ এসআই আহত

আপডেট সময় ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

পাবনা: বনা সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গীতে রাত ৮টার দিকে (রোববার, ২ নভেম্বর) নামাজরত অবস্থায় নিজাম প্রামাণিক (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে; ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করতে গেলে তিন উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত নিজাম প্রামাণিক মৃত ইন্তাজ প্রামাণিকের ছেলে এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা প্রামাণিক একই এলাকার নিজামীনের সঙ্গে জীবিকাসহ কৃষি কাজে যুক্ত ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা ওই বাজার থেকে দুধ বিক্রি করে বাসায় ফেরেন নিজাম। খাওয়া-দাওয়ার পর তিনি এশার নামাজে দাঁড়ান। ওই সময় সুযোগ বুঝে দরজা আটকে রেখে ছেলে মোস্তফা হাঁসুয়া নিয়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘর থেকে বের হন এবং পাশের রুমে তালাবদ্ধ হয়ে বসে থাকেন।

বাড়ির লোকজন পরে ঘরে ঢুকলে লাশ পড়ে থাকতে দেখে এবং পরে স্থানীয়রা তাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে।

আটকের সময় অভিযুক্তের ছুরিকাঘাতে সদর থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক, এসআই জিয়াউর রহমান ও এসআই আবু রায়হান আহত হন। তাদের মধ্যে এসআই জিয়াউর রহমানকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে; বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন, “আমার বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। আগে ও আমাকে মেহগনির ঢাল দিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল। মাদক চাহিদার কারণে পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাইত; না পেলে ঘরে ভাঙচুর করত। আজও সে আমাকে হত্যা করতে গামছায় হাঁসুয়া নিয়ে মাঠে খোঁজাখুঁজি করেছিল।” তিনি আরও বলেন, “যদি তাকে এখনই ফাঁসি দেয়া হয় আমরা কোনো দাবি-দাওয়া রাখব না।”

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে আছে — বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে।