ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, তবুও হাসি নেই পরিবারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতক সন্তান প্রসাব করেছেন এক প্রসুতি। শিশুগুলোর অস্বাভাবিক জন্ম হওয়া চিকিৎসা সংকট দেখা দেয়ায় আনন্দের পরিবর্তে হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারে। জন্মের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইটি শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই শিশুগুলো জন্মগ্রহণ করে। শিশুগুলোর মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে সন্তান রয়েছে এবং একটি মেয়ে সন্তান মারা গেছে। শিশুগুলোর বাবার নাম মাহামুদুল হাসান।

শিশুগুলোর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহামুদুল হাসানের। তাদের বিয়ের পরই চাঁদনী বেগম সন্তান সম্ভাব্য হলে এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। এক পর্যায়ে জানতে পারেন চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের আগে বাঁচ্চাগুলো প্রসাব করায় দুশ্চিতায় রয়েছে পরিবারটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চারটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে শুধুমাত্র অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।

 

হাসপাতালটির লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫ টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান প্রসাব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি ৪টি সন্তান প্রসাব করেন।

 

তিনি আরও জানান, নবজাতকগুলো ২৮ সপ্তাহের সময়ে অস্ত্রোপচার ছাড়াই জন্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় নবজাতকগুলোর ওজন ৫’শ গ্রাম থেকে ৭’শ গ্রামের মধ্যে রয়েছে। আবার কারও চোখ ফোটেনি, সবকিছু মিলে নবজাতকগুলো অস্বাভাবিক বলা যায়। এছাড়া মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, তার রক্তের প্রয়োজন।

 

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ণ) চিকিৎসক প্বীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, শিশুদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, এখানে ৫টা বাঁচ্চার মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং বাঁচ্চাগুলো সংকটাপন্ন রয়েছে। তাদের বিশেষ সাপোর্ট প্রয়োজন কিন্তু আমাদের এখানে সেটি নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার কথা জানিয়েছি কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। এছাড়া আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, তবুও হাসি নেই পরিবারে

আপডেট সময় ০১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতক সন্তান প্রসাব করেছেন এক প্রসুতি। শিশুগুলোর অস্বাভাবিক জন্ম হওয়া চিকিৎসা সংকট দেখা দেয়ায় আনন্দের পরিবর্তে হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারে। জন্মের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইটি শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই শিশুগুলো জন্মগ্রহণ করে। শিশুগুলোর মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে সন্তান রয়েছে এবং একটি মেয়ে সন্তান মারা গেছে। শিশুগুলোর বাবার নাম মাহামুদুল হাসান।

শিশুগুলোর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহামুদুল হাসানের। তাদের বিয়ের পরই চাঁদনী বেগম সন্তান সম্ভাব্য হলে এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। এক পর্যায়ে জানতে পারেন চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের আগে বাঁচ্চাগুলো প্রসাব করায় দুশ্চিতায় রয়েছে পরিবারটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চারটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে শুধুমাত্র অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।

 

হাসপাতালটির লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫ টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান প্রসাব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি ৪টি সন্তান প্রসাব করেন।

 

তিনি আরও জানান, নবজাতকগুলো ২৮ সপ্তাহের সময়ে অস্ত্রোপচার ছাড়াই জন্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় নবজাতকগুলোর ওজন ৫’শ গ্রাম থেকে ৭’শ গ্রামের মধ্যে রয়েছে। আবার কারও চোখ ফোটেনি, সবকিছু মিলে নবজাতকগুলো অস্বাভাবিক বলা যায়। এছাড়া মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, তার রক্তের প্রয়োজন।

 

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ণ) চিকিৎসক প্বীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, শিশুদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, এখানে ৫টা বাঁচ্চার মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং বাঁচ্চাগুলো সংকটাপন্ন রয়েছে। তাদের বিশেষ সাপোর্ট প্রয়োজন কিন্তু আমাদের এখানে সেটি নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার কথা জানিয়েছি কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। এছাড়া আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।